ঢাকা      সোমবার, ০১ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
IMG-LOGO
শিরোনাম

২ লাখ মানুষকে সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ সহায়তা

IMG
21 May 2020, 7:30 PM

ঢাকা, বাংলাদেশ গ্লোবাল: কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদফতরের আওতায় ১১ মে পর্যন্ত এক লাখ ৯৬ হাজার মানুষকে ত্রাণ হিসেবে খাদ্য সহায়তা ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে তিন কোটি টাকা এবং জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ থেকে ২৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা দেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ করা হচ্ছে।

সমাজসেবা অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দের ব্যক্তিগত অনুদান এবং ৫৬ হাজার নিবন্ধিত স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাসমূহের অনুদানেও ত্রাণ কার্য পরিচালনা করা হচ্ছে।

করোনা দুর্যোগ মোকাবেলায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থার আওতায় ৮০ লাখ উপকারভোগীর মধ্যে ভাতাদি বিতরণের কাজ চলছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: বয়স্ক ভাতা কর্মসূচিতে উপকারভোগী ৪৪ লাখ, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা কর্মসূচিতে ১৭ লাখ, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচিতে ১৫ লাখ ৪৫ হাজার, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচিতে এক লাখ, হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচিতে ছয় হাজার, বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচিতে ১০ হাজার, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচিতে ৭১ হাজার, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচিতে উপকারভোগী ৫০ হাজার, ক্যান্সার, কিডনী লিভার সিরোসিস, জন্মগত হৃদরোগী, প্যারালাইজড, থ্যালাসেমিয়া রোগীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান কর্মসূচিতে ৩০ হাজার এবং বেসরকারি এতিমখানায় ক্যাপিটেশন গ্রান্ট পাচ্ছেন ৯৭ হাজার ৫০০ জন।

সকল সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের আওতায় জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তৃতীয় কিস্তির নিয়মিত ভাতা বিতরণ এবং এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত চতুর্থ কিস্তির অগ্রীম ভাতাও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিতরণের কাজ চলমান রয়েছে। ঈদুল ফিতরের পূর্বেই সকল ভাতা বিতরণের কাজ সম্পন্ন হবে। পরিস্থিতির কারণে সুদমুক্ত ঋণ গ্রহীতাদের নিকট থেকে ঋণ আদায় স্থগিত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অর্থ বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে অতিরিক্ত ঋণ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। এই খাতে অতিরিক্ত এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের জন্য অর্থ বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

বর্তমানে চলমান সুদমুক্ত ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ ৮৩ হাজার এবং সুদমুক্ত ক্ষুদ্র ঋণ আদায়ের হার গড়ে ৯০%। বর্তমানে সমগ্র দেশে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সর্বমোট ৫২৩ টি হাসপাতাল সমাজসেবা ইউনিটের মধ্যে ঢাকামহানগরীসহ জেলা পর্যায়ে সরকারী ও বেসরকারী হাসপাতালে ১০৪ টি ও উপজেলা পর্যায়ে ৪১৯ টি উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, সুবিধাবঞ্চিত শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমের অধীনে ৮৫টি সরকা‌রি শিশু প‌রিবার, ছয়টি এ‌তিম ও প্রতিবন্ধী‌ ছে‌লে মে‌য়ে‌দের কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, তিনটি ম‌হিলা‌দের আর্থসামা‌জিক প্রশিক্ষণ কে‌ন্দ্র, ছয়টি ছোটমনি নিবাস, একটি ডে কেয়ার সেন্টার, ১৩টি শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং তিনটি দুস্থ শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে মোট উপকারভোগী রয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ১৭ হাজার এবং তিন হাজার ৯২০টি বেসরকারি ক‌্যা‌পি‌টেশন গ্রান্ট প্রাপ্ত বেসরকা‌রি এতিমখানায় সাড়ে ৯৭ হাজার শিশু।

আইনের সংস্পর্শে বা সংঘর্ষে আসা শিশু ও ব্যক্তির উন্নয়ন ও পুনর্বাসনের আওতায় তিনটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র, ছয়টি মহিলাও শিশু-কিশোরী হেফাজতীদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র, পাঁচটি সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র এবং ছয়টি সামাজিক প্রতিবন্ধী মহিলাদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রেও নতুন নিবাসীদের আলাদাভাবে ১৪ দিন কোয়ারেনটাইন রুমে রাখা নিশ্চিত করা হয়েছে।

৭৯টি প্রতিবন্ধী বিষয়ক প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক হাজার ৫৮৭ জন নিবা‌সীর স্কুল বন্ধ থাকায় কো‌চিং সাই‌কেলের মাধ্যমে, টিভি ও অনলাইন ভিত্তিক পাঠদান নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৬৪টি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ১৫টি।

সাম্প্রতিক খবর জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা সাবস্ক্রাইব করুন YouTube

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন