ঢাকা      শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
IMG-LOGO
শিরোনাম

ভেঙে ভেঙেই বাড়ী যাচ্ছেন ঘরমুখো মানুষ !

IMG
22 May 2020, 8:09 PM

টাঙ্গাইল, বাংলাদেশ গ্লোবাল: বিশ্ব মহামারি করোনার সংক্রমন ঠেকাতে বন্ধ গণপরিবহন। এরপরও আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের নেমেছে বাড়ী ফেরার ঢল। ঢাকা, গাজীপুরসহ আশপাশের জেলা গুলো থেকে ইতোমধ্যেই বাড়ীতে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের তারটিয়া ও আশেকপুর বাইপাস এলাকায় দেখা গেছে ঘরমুখো মানুষের ভেঙে ভেঙে বাড়ী যাওয়ার প্রতিযোগিতা। এ সুযোগ নিয়ে আর বাড়তি টাকা আয়ের আশায় এই পরিবহন সুবিধা দিচ্ছেন চালকরা।

জানা যায়, উত্তরবঙ্গের ২৬টি জেলার ৯২টি রোডসহ ১২২ রোডের যানবাহন ঢাকা টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধুসেতু মহাসড়ক হয়ে এই বঙ্গবন্ধু সেতুর উপর দিয়ে পারাপার করে।

আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে আর গণপরিবহন বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে আশেকপুর বাইপাস এলাকায় রীতিমত বসেছে সিএনজি আর ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সার স্ট্যান্ড। এ স্ট্যান্ডের পরিবহনগুলো ভোর থেকে রাত পর্যন্ত এলেঙ্গা আর ভূঞাপুর পর্যন্ত পৌছে দিচ্ছেন যাত্রী। এছাড়াও মির্জাপুর থেকে লেগুনা অথবা সিএনজিতেও এলেঙ্গা আর ভূঞাপুর পর্যন্ত যাতায়াত করছেন যাত্রীরা। এতে এ পরিবহন চালকদের যেমন বাড়তি আয় হচ্ছে টাকা, তেমনি যাত্রীদেরও পৌছানো হচ্ছে বাড়ি।

এ সময় কথা হয় গাজীপুর ও আব্দুল্লাহপুর থেকে রওনা দেয়া বগুড়ার যাত্রী আমিনুর ইসলাম, আল আমিন, কুড়িগ্রামের যাত্রী বাছেন মিয়া আর সিরাজগঞ্জের যাত্রী মমতাজ বেগম জানান, বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তারা। ঈদকে সামনে রেখে আর অফিস থেকে ছুটি বাড়ী ফিরছেন তারা। তবে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় এভাবে ভেঙে ভেঙে বাড়ী যাচ্ছেন তারা। এতে তাদের বাড়তি কিছু টাকা খরচ আর সময় নষ্ট হওয়ার কথা স্বীকার করলেও পরিবার নিয়ে ঈদ করার জন্যই তাদের এই যাত্রা। তবে এ যাত্রা পথে কিভাবে তারা সেতু পারাপার হচ্ছেন এমন প্রশ্নে জানান, ভূঞাপুর থেকে নৌ পথে সিরাজগঞ্জ পৌছে আবার এভাবেই তাদের পৌছাতে হবে বাড়ী। গণপরিবহনে তাদের যেখানে ভাড়া লাগতো সাড়ে তিনশ থেকে সাড়ে চারশ টাকা এখন সেখানে খরচ হবে আটশ থেকে এক হাজার টাকা।

লেগুনা চালক সোহেল মিয়া জানান, মির্জাপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত জনপ্রতি দেড়শ টাকা ভাড়ায় পৌছে দিচ্ছেন তিনি। মির্জাপুর থেকে এলেঙ্গার ভাড়া ৫০ টাকা তবে এরপরও কেন তারা এই অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে এমন প্রশ্নে সে বলেন সড়কে পুলিশ আর মোবাইল কোর্টের ভয় নিয়ে তাদের মহাসড়কে চলতে হচ্ছে, এ কারণে তারা একটু বেশি ভাড়া নিচ্ছেন।

সিএনজি আর ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা চালক আরমান, জাকির, করিমসহ কয়েকজন বলেন, টাঙ্গাইল থেকে এলেঙ্গার ভাড়া জনপ্রতি ৪০ টাকা হলেও এখন তারা নিচ্ছেন ৫০ টাকা।

বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) ইফতেখার রোকন বলেন, গণপরিবহন বন্ধ থাকা স্বত্তেও ঈদকে সামনে রেখে যাত্রী বেড়েছে এ মহাসড়কে। এ সুযোগে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস আর কেই কেই অসুস্থতার দোহাই দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেই ফিরছেন বাড়ি। সন্দেহজনক কিছু গাড়ী প্রবেশে বাঁধা দেয়া হলেও বেশির ভাগ গাড়ীই পার হচ্ছে সেতু। এছাড়া নদী পথ দেখার দায়িত্ব তাদের নয় আর ওই পথে কিভাবে যাত্রী পারাপার হচ্ছেন এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না তিনি।

ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশিদুল ইসলাম বলেন, নৌ চলাচল বন্ধে বঙ্গবন্ধু নৌ পুলিশ ফাঁড়ি আর গোবিন্দাসী পুলিশ ফাঁড়িকে তৎপর থাকতে বলা হয়েছে। এ পথে কোন ধরণের নৌ চলাচল করবেনা বলেও জানান তিনি।

সাম্প্রতিক খবর জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা সাবস্ক্রাইব করুন YouTube

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন