ঢাকা      মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭
IMG-LOGO
শিরোনাম

গোপালগঞ্জের বলাকইড় বিলে মুগ্ধতা ছড়াছে পদ্ম ফুলের সৌন্দর্য (ভিডিও)

IMG
17 September 2020, 6:33 PM

বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ, বাংলাদেশে গ্লোবাল : “জলজ ফুলের রাণী বলা হয় পদ্মকে”। ফুটে থাকা ফুল শুধু বিল নয়, সৌন্দয্য বাড়িয়ে তোলে প্রাকৃতির। আর এসব প্রাকৃতিক সৌন্দয্যের দেখা মিলছে গোপালগঞ্জের বলাকইড় বিলে। দূর থেকে মনে হবে যেন ফুলের বিছানা পেতে রেখেছে কেউ।

প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয়া পদ্ম ফুল সৌন্দর্য আকৃষ্ট করায় এ বিলে প্রতিনিয়ত ভিড় করেছে দর্শনার্থীরা। শুধু সৌন্দয্যই নয়, বর্ষাকালে কোন কাজ না থাকায় বিলে দর্শনার্থীদের ঘুরিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয়রা।

সোমবার সদর উপজেলার করপাড়া ইউনিয়নের বলাকইড় বিলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভোরের সূর্য্যের সোনালি আভার সাথে প্রকৃতি যেন তার সবটুকু সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে বলাকইড় পদ্ম বিলে। চোখের দৃষ্টি যত দূর যাবে তত দূরেই দেখা মিলবে গোলাপী আর সাদা পদ্মের। বিস্তীর্ণ বিল জুড়ে পদ্মের সমাহার।

আর প্রকৃতির এমন সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে যেতে হবে গোপালগঞ্জ জেলা শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বিলবেষ্টিত বলাকইড় গ্রামে। ১৯৮৮ সালের পর থেকে বর্ষাকালে এ বিলে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয় পদ্মফুল। আর যে কারণে এখন এ বিলটি পদ্মবিল নামেই পরিচিত হয়ে উঠেছে সবার কাছে।

বর্ষা মৌসুমে এ বিলের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ফুটে থাকে গোলাপী ও সাদা রং-এর পদ্ম। যা দেখলে মন-প্রাণ আর চোখ জুড়িয়ে যায়। ৬৪টি পাপড়ি মেলে প্রকৃতিপ্রেমীদের স্বাগত জানায় জলজ ফুলের রানী পদ্ম। এমন অপরূপ দৃশ্য যেন ভ্রমণপিপাসুদের প্রতিনিয়ত হাতছানি দিচ্ছে।

সকাল হওয়ার সাথে সাথেই বিলে আসতে শূরু করে পর্যটকরা। পদ্ম ফুল আর প্রাকৃতিক সৌন্দয্য উপভোগ করার জন্য প্রতিদিনই ছেলে-মেয়ে, পরিবার-পরিজন আর বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ভিড় করছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রকৃতিপ্রেমীরা। বিলের মধ্যে নৌকায় ঘুরে ভোর থেকে সন্ধ্যা পযর্ন্ত পদ্ম ফলের সৌন্দর্য উপভোগ করেন তারা। অনেকেই আবার এমন অপরূপ সৌন্দর্য ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করে রাখছেন। স্থানীয়রাও ভ্রমণপিপাসুদের সার্বিক সহযোগিতা করছেন।

এদিকে, বর্ষা মৌসুমে এ বিলে প্রায় ১০ হাত পা‌নি‌ থাকে। সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের এ সময় কোন কাজ থাকে না। বর্ষা মৌসুমে কোন কাজ না থাকায় দর্শনার্থীদের নৌকায় ঘুরিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন দুই শতাধিক পরিবার। ছোট বড় প্রায় দুইশতাধিক নৌকা দিয়ে দর্শনার্থীদের পদ্ম বিলের সৌন্দর্য ঘুরিয়ে দেখান তারা। দৈনিক ৮’শ থেকে এক হাজার টাকা পযর্ন্ত আয় করছেন এসব নৌকার মাঝিরা। এতে তাদের পরিবারের এসেছে স্বাচ্ছন্দ্য।

এছাড়া, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজায় পদ্ম ফুলের চাহিদা থাকায় ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত বিল থেকে পদ্মফুল তুলে বাজারে বিক্রি করছেন অনেকেই। বিল এলাকায় মূল্য কম থাকলেও শহরে এক একটি ফুল ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করছেন। মটর সাইকেলের টোকেন দিয়েও আয় করছেন অনেকে। বাড়ির উঠানে দর্শনার্থীদের মটর সাইকেল রেখে দৈনিক ৩০০ থেকে ৫০০ এমনকি হাজার টাকা আয় করছেন।

তবে পদ্ম বিলে আসার একমাত্র সড়কটি অপ্রস্থ ও বেহাল অবস্থায় হওয়ায় আসা যাওয়ায় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দর্শনার্থীদের। দ্রুত সড়কটি মেরামতের দাবি জানিয়েছেন তারা।

গোপালগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক নিউটন মোল্যা, সাইফুল ইসলাম বলেন, করোনা কারনে দীর্ঘদিন ধরে ঘরবন্ধি অবস্থায় রয়েছি। একুট প্রশান্তির জন্য বলাকইড় পদ্মবিলে এসেছি। এ বিলের সৌন্দর্য দেখে বিমহিত হয়েছি। এখানে ঘুরতে আসলেই যেন মন ভাল হয়ে যায়। কিন্তু এবছর পদ্ম একটু কম। পদ্ম ছিঁড়ে ফেলার কারণে এ বছর ফুলও একটু কম ফুটেছে।

খুলনা থেকে ঘুরতে আসা শুভজিত সাহা বলেন, বিভিন্ন সময় টিভি ও ইউটিউবে গোপালগঞ্জের পদ্মবিলের কথা শুনেছি। এবছর ছুটি থাকায় তাই এখানে পদ্মবিল দেখতে এসেছি। এখানে আসলেই প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য কাছ থেকে দেখা যায়।

মাঝি আরিফুল ইসলাম ও সুমন চৌধুরী বলেন, বর্ষার সময় বিলের জমি পানিতে তলিয়ে থাকায় বছরে মাত্র একটি ফসল ফলে। যে কারণে বছরের অর্ধেকটা কাজ থাকনে। আর এ সময় দর্শনার্থীরা পদ্মবিল দেখতে ও ঘুরতে আসেন। সপ্তাহের প্রতি শুক্র-শনিবার দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি থাকে। এ দুইদিন দর্শনার্থীদের নৌকায় ঘুরিয়ে আমাদের আয়-রোজগার হয়। এখানে ছোট সাইজের নৌকা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা ও বড় সাইজের নৌকা ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায় ভাড়া হয়। বছরের ৩ থেকে ৪ মাস দর্শনার্থীদের নৌকায় ঘুরিয়ে আয় করে সংসার চালান।

বলাকইড় গ্রামের তাজমুল চৌধুরী বলেন, তার ১০ সদস্যের পরিবার। শ্রমিক বাবার রোজগার দিয়ে সংসার চালানো কঠিন। তাই সে পদ্ম বিল দেখতে আসা দর্শনার্থীদের নৌকায় ঘুরিয়ে থাকেন। এতে তার দৈনিক ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা আয় করেন। এতে তাদের সংসার খুব ভালভাবেই চলে যাচ্ছে।

বিল পাড়ের চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্র তামিম সরদার বলেন, তাদের কোরবানী ঈদের আগে ও পরে দর্শনার্থীদের অনেক চাপ ছিলো। তখন প্রতিদিন এক-দেড়’শ মটর সাইকেল রেখেছেন। প্রতি মটর সাইকেল থেকে সে ২০ টাকা করে নেয়। এই টাকা দিয়ে সে লেখাপড়া করার পাশাপাশি পরিবারের খরচ করে।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা জানিয়েছেন, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধী। এছাড়া কোটালীপাড়ায় রয়েছে কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচায্যের পৌত্রিক ভিটা। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটক এখানে আসনে। সেখানে থেকে তারা পদ্ম ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বলাকইড় পদ্মবিলে যান। যাতে পদ্মমৌসুমকে কেন্দ্র করে এখানে পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা যায়, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

সাম্প্রতিক খবর জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা সাবস্ক্রাইব করুন YouTube

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন