ঢাকা      বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
IMG-LOGO
শিরোনাম

মুজিব জন্মশতবর্ষ : জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন

IMG
17 November 2020, 12:05 AM

মুহ: সাইফুল্লাহ: স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদষ্টা ও স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশ-বিদেশে বছরব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারির করাল গ্রাসে মুজিববর্ষের এ কর্মসূচি অনেকটাই সীমিত করতে হয়। জাতির পিতাকে স্মরণ করে জাতীয় সংসদে একটি বিশেষ অধিবেশন হওয়ার কথা ছিলো মার্চেই। করোনাভাইরাসের কারণে সে অধিবেশন পিছিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ৫ থেকে ১৫ নভেম্বর ২০২০। এতে জাতির পিতার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, কর্ম, আদর্শ ও দর্শন - এর ওপর বিস্তারিত আলোচনা হয়। গত সোমবার (৯ নভেম্বর) রাষ্ট্র্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের ভাষণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অধিবেশন শুরু হয়। রাষ্ট্র্রপতির ভাষণের পর জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনার মাধ্যমে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সংসদ কার্যবিধির ১৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রস্তাব উত্থাপন করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংসদে সকল দলের সংসদ সদস্যদের পাঁচ কর্ম দিবসের আলোচনায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী উত্থাপিত প্রস্তাব গতকাল (১৫ নভেম্বর) কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

রাষ্ট্র্রপতি ৯ নভেম্বর জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তাঁর ভাষণে বলেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশকে জানতে হলে বাঙালির মুক্তির সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে হবে, বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে। এই দুই সত্তাকে আলাদাভাবে দেখার চেষ্টা যারা করেছেন, তারা ব্যর্থ হয়েছেন। আজকের বাস্তবতা এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। রাষ্ট্র্রপতি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু একটি নাম নয়, বঙ্গবন্ধু একটি প্রতিষ্ঠান, একটি সত্তা, একটি ইতিহাস। জীবিত বঙ্গবন্ধুর মতোই অন্তরালের বঙ্গবন্ধু শক্তিশালী। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, বাঙালি থাকবে, এদেশের জনগণ থাকবে, ততদিনই বঙ্গবন্ধু সবার অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন। রাষ্ট্র্রপতি বলেন, নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের মুক্তির আলোকবর্তিকা হয়ে তিনি বিশ্বকে করেছেন আলোকময়। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে বঙ্গবন্ধুর নীতি, আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বেড়ে উঠতে পারে, সে লক্ষ্যে সবাইকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান মোঃ আবদুল হামিদ।

যারা দেশের সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতার সুফল প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ঐক্য। জনগণের ঐক্য, বিশেষকরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ঐক্য। যে ঐক্য একাত্তরে আমাদের এক করেছিল, সে ঐক্যই গড়ে তুলতে হবে সাম্প্রদায়িকতা, অগণতান্ত্রিকতা, অসহিষ্ণুতা ও হিংসার বিরুদ্ধে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে পরমতসহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা বোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। যারা বাস্তবকে অস্বীকার করে কল্পিতকাহিনী ও পরিস্থিতি বানিয়ে দেশের সরলপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও বিপদগামী করে, দেশের শান্তি অগ্রগতির ধারাকে ব্যাহত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে একাত্তরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই প্রতিষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা, সার্থক হবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন।

জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তাব উত্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু একটি স্বাধীন দেশ, লাল সবুজ পতাকা ও সংবিধান উপহার দিয়েছেন, বিশ্ব সভায় বাঙালিকে আত্মপরিচয় দিয়ে গর্বিত জাতি রূপে মাথা উচুঁ করে চলার ক্ষেত্র রচনা করেছেন। স্বাধীনতার পর একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার জন্য মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন তিনি। সেই সময়ের মধ্যেই দেশের উন্নয়নের সামগ্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন।

সংসদ নেতা বলেন, ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা নির্মমভাবে নিহত না হলে বাংলাদেশ বহু আগেই উন্নত দেশে পরিণত হতো। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করতে পারাকে সৌভাগ্য হিসেবে বর্ণনা করেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য তিনি জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বঙ্গবন্ধুর হত্যা পরবর্তী বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় বঙ্গবন্ধুর নাম এবং ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনে তাঁর অবদান ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা হয়। তিনি বলেন, এমনকি ‘৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। সে ঐতিহাসিক ভাষণ এখন বিশ্ব প্রামাণ্য হেরিটেজ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস মুছে ফেলা সহজ নয়, ইতিহাসও প্রতিশোধ নেয়। তিনি বলেন, এখন থেকে আর কেউ ইতিহাস থেকে সেই নাম (জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) মুছতে পারবে না, এটাই বাস্তবতা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’, ‘আমার দেখা নয়া চীন’ পড়ে জনগণ প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারবে। ‘পাকিস্তানি ইনটেলিজেন্স রিপোর্ট অন ফাদার অভ্ দ্য ন্যাশন’ থেকেও প্রকৃত ইতিহাস জানা যাবে। প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘স্মৃতিকথা’ শিরোনামে জাতির পিতার লেখা আরেকটি বইয়ের প্রকাশের কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বিশ্বাস করতেন দেশের মানুষ তাঁকে অত্যন্ত ভালবাসে এবং তারা তাঁকে মারতে পারবে না। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, বাঙালি জাতি জাতির পিতার সে বিশ্বাস রক্ষা করতে পারেনি। শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু (মৃত্যুর আগে) বিশ্বাসঘাতকদের দেখে গিয়েছিলেন, কিন্তু পেছনের ষড়যন্ত্রকারীদের তিনি দেখে যেতে পারেননি। তিনি বলেন, বিরাট সংখ্যক নয়, গুটিকয়েক ব্যক্তি এ ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি জেল থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বাধীন দেশে ফিরে প্রথম ভাষণে জাতির পিতা দেশবাসীকে বলেছিলেন, ষড়যন্ত্র চলছে, ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কিন্তু তারা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে ব্যর্থ হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা আজ আমাদের মাঝে নেই। তাঁর আদর্শ, তাঁর প্রতিটি কথা, বাক্য আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এগুলো আমাদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয়। দুঃখ, দুর্দশা দূর করে দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে জাতির পিতার আজন্ম স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংসদে তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলার হাজার বছরের ইতিহাসে নবাব সিরাজউদ্দৌলা, ফকির মজনু শাহ, তিতুমীরসহ অনেকেই স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, কিন্তু সফল হননি। কেবল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই সফল হয়েছেন এবং আমাদের একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়ে গেছেন

সংসদে বঙ্গবন্ধুর ওপর আলোচনার দ্বিতীয় দিনে (১০ নভেম্বর) জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ৬ দফা ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধু ৩৫ দিনে ৩২টি জনসভা করেছিলেন। এ সময় ৮ বার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তোফায়েল আহমেদ বলেন, এই পৃথিবীতে অনেক নেতা আসবেন, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মতো আর কোনো নেতা আসবেন না। তিনি ছিলেন বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ নেতা। তিনি মৃত্যুবরণ করেননি, তিনি আছেন, থাকবেন।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, ৬ দফা বঙ্গবন্ধুকে একক নেতায় পরিণত করেছিল। তিনি কেবল একটি দলের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন দেশের নেতা, মানুষের নেতা। তিনি শুধু আওয়ামী লীগের নেতা নন, তিনি জাতির জনক।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, খুনিরা বুঝেছিল, বঙ্গবন্ধুর রক্তের ছিটেফোঁটাও যদি থাকে, তাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে। এ কারণে তারা শিশু রাসেলকে পর্যন্ত ক্ষমা করেনি, কাউকেই রেহাই দেয়নি। সৌভাগ্যক্রমে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেঁচে যান। বঙ্গবন্ধুর অসম্পন্ন কাজ সম্পন্ন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তৃতীয় দিনের (১১ নভেম্বর) আলোচনায় অংশ নিয়ে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ স্কুল-কলেজের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান।

সংসদ সদস্য আবদুল মতিন খসরু কমিশন গঠনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ‘মাস্টারমাইন্ড’দের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের নামের সাথে ব্রিগেডিয়ার বা কর্নেল এর মতো র‌্যান্ক ব্যবহার না করার কথা বলেন।

মুজিববর্ষে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনের চতুর্থদিনের (১২ নভেম্বর) আলোচনায় আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু এমপি বলেন, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির ষড়যন্ত্রে নিহত বঙ্গবন্ধু তাঁর সোনার বাংলার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধু একটি পতাকা, একটি আন্দোলন, একটি বিপ্লব, একটি ইতিহাস। বঙ্গবন্ধু একজন রাজনীতির কবি এবং ইতিহাসের একজন মহানায়ক। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বিশ্বের সবচেয়ে মেধাবী রাজনীতিবিদ এবং ‘স্ট্যাটেজিস্ট’। তিনি সকল বাঙালিকে এক এক জন মুজিবে পরিণত করেছিলেন।

সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙা বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড ইতিহাসের ভয়াবহ ঘটনা। এ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে পুরো জাতি অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে। যদিও খুনিদের বিচার হয়েছে, কিন্তু হত্যাকাণ্ডের পেছনের কুশিলবরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর রাজাকার আলবদরদের স্থান এ সংসদে হবে না, এ দেশের কোথাও হবে না।

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ মুজিববর্ষের বিশেষ অধিবেশনে বক্তৃতাকালে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার একটি লেখা পাঠ করেন যেখানে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের বর্ণনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে হারুনুর রশীদ বলেন, ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুর সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। তিনি যদি পালিয়ে যেতেন বা ভারতে আশ্রয় নিতেন, তাহলে তাঁকে বিছিন্নতাবাদী নেতা বলা হতো। বিএনপি নেতা বলেন, মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য শেখ মুজিবুর রহমান যে দীর্ঘ সংগ্রাম করেছেন, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ আলোচনার শেষ দিনে (১৫ নভেম্বর) তাঁর বক্তৃতায় বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুর নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল, তারাই ইতিহাস থেকে নিশ্চিন্ন হয়ে গেছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রসংসা করে বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।’

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্বকালে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আর বঙ্গবন্ধুর দর্শণ ধারণ করে তাঁর হাতে রচিত ১৭২-এর সংবিধানের ভিত্তিতেই ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে।

সংসদে কণ্ঠভোটে জাতির পিতাকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন প্রস্তাব পাশের ঠিক আগে ৫ম দিনে (১৫ নভেম্বর) আলোচনায় অংশগ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে জাতির পিতা বাংলাদেশ কৃষখ শ্রমিক আওয়ামী লীগ-বাকশাল গঠন করেন। কিন্তু পুরো ধারণাটা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। সংসদ নেতা বলেন, সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার দ্রুত উন্নয়নে জাতির পিতা দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি সংবিধান সংশোধন করেন এবং ৫ বছরের কর্মসূচি হাতে নেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, তিনি যদি সে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারতেন, আজ বাংলাদেশ বিশ্বের একটি উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতো।’ কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁকে তা করতে দেয়া হয়নি।

যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন থাকবে বঙ্গবন্ধুর নাম। জাতি যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করবে। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী স্মরণে জাতীয় সংসদের এ বিশেষ অধিবেশন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ইতিহাসে প্রথম বিশেষ অধিবেশন যা একাদশ জাতীয় সংসদের দশম অধিবেশন। এর আগে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন আর হয়নি। তবে, দু’টি বিশেষ বৈঠকের কথা জানা যায়। ১৯৭৪ সালের ৩১ জানুয়ারি ও ১৮ জুন অনুষ্ঠিত সংসদের বিশেষ বৈঠকে ভাষণ দেন যথাক্রমে তৎকালীন যুগোস্লাভ রাষ্ট্রপতি মার্শাল যোসেফ ব্রোজ টিটো এবং ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি।

লেখক : সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য অফিসার, তথ্য অধিদফতর

সাম্প্রতিক খবর জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা সাবস্ক্রাইব করুন YouTube

IMG

এ বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন