ঢাকা      মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
IMG-LOGO
শিরোনাম

শীতে ত্বকের যত্ন নিবেন কিভাবে

IMG
21 November 2020, 11:46 AM

লাইফস্টাইল ডেস্ক, বাংলাদেশ গ্লোবাল: এখন শীত মৌসুম। শুষ্ক হয়ে উঠেছে আবহাওয়া। একই সাথে শুষ্ক হয়ে উঠছে মানুষের ত্বক। শুষ্কতার পরিমাণ বেড়ে গেলে তা ত্বকে সৃষ্টি করে নানা সমস্যা। সৌন্দর্যেরও হানি ঘটে ব্যাপক। কে না চায় চেহারাটা সুন্দর থাকুক? সবাই প্রশংসা করুক তার রূপের? সুন্দর চেহারা বা রূপের জন্য স্বভাবতই প্রথমে পরিচর্যা নিতে হয় ত্বকের। আর শীতে তো কথাই নেই। ত্বকের প্রধান শত্রু শীত। আরো বেশি পরিচর্যার প্রয়োজন পড়ে এ সময়। তবে শীতে ত্বকের শুষ্কতা মারাত্মক রূপ নেয়ার আগে কিছুটা যত্ন নিলেই ত্বককে কোমল, সজীব করা সম্ভব। কিন্তু কীভাবে?

নিচের পরামর্শগুলো অনুসরণ করুন...

গোসলের সময় দীর্ঘক্ষণ ধরে গোসল করবেন না কিংবা গরম পানি ব্যবহার করবেন না। কারণ এগুলো ত্বকের শুষ্কতা আরো বাড়িয়ে তোলে। গোসলের পরে ত্বকে ভেজা ভাব থাকতেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। হাতে, পায়ে, মুখে এবং পুরো শরীরে ময়েশ্চারাইজার মাখুন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় ময়েশ্চারাইজার মেখে ঘুমাতে যেতে পারেন। মনে রাখতে হবে, ত্বক একেবারে শুকিয়ে নিয়ে তারপর ময়েশ্চারাইজার মাখলে কাজ হবে না। ত্বকে ভেজাভাব থাকতেই ময়েশ্চারাইজার মাখতে হবে।

শীতে গোসলের সময় সাবান কম ব্যবহার করাই ভালো। কারণ সাবান ত্বকে শুষ্কতা সৃষ্টি করে। সুতরাং গোসলে কিংবা হাত-মুখ ধুতে সাবান যতটা সম্ভব কম ব্যবহার করবেন। এ সময় সাধারণত গ্লিসারিন সমৃদ্ধ সাবান ব্যবহার করাই উত্তম।

শীতে ত্বকের শুষ্কভাব দূর করতে গ্লিসারিন কিংবা অলিভ অয়েল নিয়মিত মাখতে পারেন। গ্লিসারিন হলো সবচেয়ে ভালোময়েশ্চারাইজার। একভাগ গ্লিসারিনের সাথে দু’ভাগ পানি মিশিয়ে ব্যবহার করুন। গ্লিসারিনের আঠা-আঠা ভাবটা দূর করার জন্য গ্লিসারিন মাখার পর একটা ভিজে তোয়ালে বা কাপড় হালকা করে ত্বকে চেপে ধরলে আঠাভাব চলে যাবে।

রোদে বের হওয়ার আগে অবশ্যই ত্বকে সানস্ক্রিন ক্রিম মেখে বের হতে হবে। শীতের রোদ মিষ্টি আমেজ সৃষ্টি করলেও ত্বকের জন্য তা ক্ষতিকর। সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি ত্বকের সমূহ ক্ষতি করে। ত্বকের ক্যান্সার ঘটা বিচিত্র কিছু নয়। তাই ত্বককে রক্ষা করতে হলে সানপ্রোটেকটিভ ফ্যাক্টর বা এসপিএফসমৃদ্ধ ক্রিম মেখে বের হওয়াই মঙ্গলজনক। বিভিন্ন মাত্রার এসপিএফসমৃদ্ধ ক্রিম বা লোশন রয়েছে। তবে গবেষকদের মতে এসপিএফ-১৫ সমৃদ্ধ ক্রিম ত্বকের জন্য নিরাপদ।

শরীরের ত্বকের শুষ্কতার সাথে পাল্লা দিয়ে ঠোঁটের শুষ্কতা এ সময়ে মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। অনেকে এ সময়ে জিভ দিয়ে বারবার ঠোঁট ভেজাতে থাকেন, যা ঠোঁটের কোমল ত্বকের জন্য আরো ক্ষতি ডেকে আনে। সবচেয়ে ভালো হয়- ঠোঁটে বারবার ভেসলিন মাখলে। যদি ভেসিলিন শুকিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়, তাহলে গাঢ় করে ভেসলিন মাখতে হবে। ঠোঁটের ওপরিভাগের পাতলা শুষ্ক ত্বক কখনো টেনে তুলে আনার চেষ্টা করবেন না, তাতে ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যাবে।

শীতে শরীরের ত্বক ফেটে যায়। সৃষ্টি হতে পারে বিভিন্ন চর্মরোগের। এ অবস্থা প্রতিরোধ করার জন্য রাতে ঘুমানোর আগে পুরো শরীরে অলিভ অয়েল মাখলে ত্বকের শুষ্কতা কেটে যাবে এবং ত্বক সজীব থাকবে। ত্বক ফেটে যাওয়ার পরিমাণ বেড়ে গেলে এবং অলিভ অয়েল ব্যবহারে তেমন উন্নতি না ঘটলে চিকিত্সকের পরামর্শ নেয়া বাঞ্ছনীয়।

বিভিন্ন ফলমূল এবং সবজি ত্বকের সুরক্ষা নিশ্চিত করে থাকে। গাজর, শিম, লেবু, টমেটো, পালংশাক প্রভৃতি সবজি খেলে ত্বক যৌবনদীপ্ত থাকে। অনেকে ত্বক সুন্দর রাখার জন্য ত্বকে বিভিন্ন সবজি ও ফলের রস মেখে থাকেন। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ত্বকে এ ধরনের সবজি বা ফলের রস মাখলে সত্যিকার অর্থে কোনো কাজ হয় না, উপরন্ত ত্বকে লেবুর রস মেখে বাইরে বেরোলে ত্বকের রঙ আরো কালো হয়। ত্বকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবজি এবং ফলমূল খেতে হবে। সেই সাথে পান করতে হবে প্রচুর পরিমাণ পানি। আর হ্যাঁ, ধূমপান একেবারেই করবেন না। গবেষকরা বলেন, ধূমপান ত্বককে বৃদ্ধ করে ফেলে।

সাম্প্রতিক খবর জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা সাবস্ক্রাইব করুন YouTube

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন