ঢাকা      মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭
IMG-LOGO
শিরোনাম

ডাকাডাকি লাফালাফিই ওদের প্রেমের আমন্ত্রণ

IMG
09 January 2021, 1:52 PM

পারভীন লুনা, বগুড়া, বাংলাদেশ গ্লোবাল : বগুড়া শিবগঞ্জের প্রতিষ্ঠিত চাতাল ব্যবসায়ী মোখলেসুর রহমান (৬৮)। জেলা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে শিবগঞ্জ উপজেলার পিরব ইউনিয়নের সিহালী গ্রামে এই ব্যবসায়ীর ঠিকানা। দীর্ঘ চার যুগ ধরে অটো রাইস মিলের ব্যবসা করে আসছেন তিনি।

পাশাপাশি ২০০৩ সালে রাজশাহী চিড়িয়াখানা থেকে শখের বসে ৩৩হাজার টাকা দিয়ে চিত্রা প্রজাতির একজোড়া হরিণ ক্রয় করেন মোখলেসুর রহমান। ওই সময় হরিণ লালন পালনে বাংলাদেশ সরকার কোন ধরনের লাইসেন্স না দিলেও চিড়িয়াখানা থেকে একটা অনুমতিপত্র দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি সাপেক্ষে গড়ে তুলেন হরিণের খামার। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে ১২টি হরিণ।


সরেজমিনে মোখলেসুর রহমানের হরিণের খামারে গিয়ে দেখা যায়, হরিণ গুলো ঘরের মধ্যে ছুটাছুটি করছে। ছবি তোলার জন্য বাইরে আনার জন্য অনুরোধ করলে তদারককারী খাবার দিয়ে ডাক দিতেই হরিণগুলো দল বেধে বাইরে আসে। ক্যামরা তাক করার সঙ্গে সঙ্গে তারা চারদিকে ছুটাছুটি করতে থাকে। আবার মূহুর্তেই স্থির দাঁড়ায়। তাকিয়ে থাকে ক্যামেরার দিকে।

কথা হয় মোখলেসুর রহমানের ছেলে মতিয়ার রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, চাতাল ব্যবসার পাশাপাশি ১৭ বছর পূর্বে সখের বসে তার বাবা হরিণের খামার গড়ে তোলেন। প্রথম যখন আনা হলো সারাক্ষণ মুখ গোমড়া করে থাকত, ওদের ভাষায় কথা বলত। যখন বুঝতে পারে এখানে ওরা বন্দী তখন আস্তে আস্তে সুপরিসর ঘর আর বাগানকেই বন মনে করে এখন মানিয়ে নিয়েছে। খাবার দেয়ার সময় হলে ওরা ছুটে আসে। বনের নিরীহ এই প্রাণীগুলোর নিরিবিলি পছন্দ। নিজে থেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে। এজন্যই বুঝি ওদের রোগবালাই কম। যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করে না। এমনকি পরিষ্কার না হলে খাবারও খায় না।


বন বিভাগের অনুমতিতে গত ১৫ বছরে ২০টি হরিণ বিক্রি করেছেন তার বাবা। যারা কেনেন তাদেরও লাইসেন্স থাকতে হয়। প্রথম দিকে প্রতি জোড়া হরিণ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। বর্তমানে প্রতি জোড়া ১ লাখ থেকে ১২০ হাজার টাকা বিক্রি করছেন তারা।

মতিয়ার রহমান জানান, যেহেতু হরিণের মাংস কেনা বেচা সরকারের নিষেধাজ্ঞা আছে। তাই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হরিণের খামার গড়তেও দিচ্ছেনা সরকার। তবে, শখের বসে কেউ খামার করতে চাইলে বণ্য প্রাণি সংরক্ষণ অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নিতে হয়। লাইসেন্স ফি ১০হাজার টাকা। এছাড়া, প্রতি বছর ১০হাজার টাকা ও প্রতিটি হরিণ বাবদ ১০০ টাকা করে ফি জমা দিয়ে লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। তবে, এই নবায়ন ফি আরও কমানোর দাবি জানান তিনি।

এদিকে হরিণ দেখভালের কর্মীরা জানান, জন্মের পর বাচ্চার গায়ে হাত দিলে হরিণ আর ওই বাচ্চাকে সহজে দুধ দেয় না। হরিণ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে পছন্দ করে। খামার পরিষ্কার রাখা হয় সবসময়। নারী ও পুরুষ হরিণের মধ্যে খুব ভাব। ভাবের আগে ডাকাডাকি আর লাফালাফিই ওদের প্রেমের আমন্ত্রণ। এই খামারের সকল হরিণ চিত্রা।

সিহালী এলাকার আবুল হোসেন জানান, প্রতিদিনই জেলার বিভিণ্ন স্থান থেকে লোকজন হরিণ দেখতে আসে। হরিণ পালনে সরকারী লাইসেন্স করতে হয়, খরচও অনেক। সে কারণে ইচ্ছে থাকলেও সহজে কেউ হরিণ পালন করতে পারে না।

খামারের মালিক মোখলেছুর রহমান জানান, হরিণকে কচি পাতা, কাঁঠাল পাতা, নরম ঘাস, অঙ্কুরিত চারা শৈবাল, নরম ফল খেতে দিতে হয়। আঁশযুক্ত খাবার এরা খায় না। এদের পাকস্থলী ছোট। রেইন হরিণ ছাড়া সকল পুরুষ হরিণের শিং আছে। হরিণ নিজে থেকেই পরিষ্কার থাকে, ওদের রোগবালাই কম। তিনি আরও জানান, হরিণ প্রতিপালনে নিয়ম আরও সহজ করা দরকার। ফি, লাইসেন্স ও নবায়ন ফি কমালে দেশে অনেক হরিণ খামার গড়ে উঠবে। যুবকরাও হরিণ পালনে আগ্রহী হয়ে উঠবে। সরকারি সহযোগিতা পেলে তিনি আরও বৃহৎ পরিসরে হরিণের খামাড় গড়বেন।

বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, চিত্রা হরিণের খামারে সহযোগিতা করা হয়। যারা হরিণ পালন করছেন তাদের এই ভালবাসায় খাদ আছে কিনা তাও একটা প্রশ্ন। কারণ তারা হরিণ পালন করে বেশি দামে বিক্রি করে দেন। তবে, সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে লাইসেন্স নিয়ে যে কেউ বৈধভাবে হরিণ খামার গড়ে তুলতে পারে।

সাম্প্রতিক খবর জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা সাবস্ক্রাইব করুন YouTube

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন