ঢাকা      রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৫ বৈশাখ ১৪২৮
IMG-LOGO
শিরোনাম

উভয় দেশই স্থিতিশীলতা, প্রেম ও শান্তি চায়: নরেন্দ্র মোদী (ভিডিও)

IMG
27 March 2021, 4:45 PM

বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ, বাংলাদেশ গ্লোবাল: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, আমরা দুই দেশ একবিংশ শতকের গুরত্বপূর্ণ সময়কালে নিজেদের লক্ষ্যপূরণ করবো। ভারত ও বাংলাদেশ উন্নতি ও প্রেমের পথে বিশ্বের পথপ্রদর্শন করতে থাকবে। আজ দুই দেশের স্বাভাবিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হয়েছে। উভয় দেশই নিজেদের বিকাশ, নিজের প্রগতির চেয়ে সমগ্র বিশ্বের উন্নতি দেখতে চায়। উভয় দেশই পৃথিবীতে অস্থিরতা, সন্ত্রাস এবং অশান্তির পরিবর্তে স্থিতিশীলতা, প্রেম এবং শান্তি চায়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ আত্মিক সম্পর্কের তীর্থক্ষেত্র। আমাদের সম্পর্ক মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক। মনের সাথে মনের সম্পর্ক। আমি আজ এখানে এসে তেমনটাই অনুভব করছি। ভারতে থাকা মতুয়া সম্প্রদায়ের হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ ভাই-বোনেরা ওড়াকান্দি এসে যেমন অনুভব করেন। আমি ঠিক আজ তেমনটাই অনুভুব করছি। আমি আজ এখানে এসেছি সে কারণে আমি তাদের পক্ষ থেকেও এই পূন্যভূমির চরণ স্পর্শ করেছি।

আজ শনিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ীতে মতুয়া নেতাদের সাথে মত বিনিময়কালে প্রায় ৩২ মিনিটের বক্তব্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদী এসব কথা বলেন।

মোদী আরো বলেন, এই দিনের এই পবিত্র মুহুর্তের প্রতীক্ষা আমার বহু দিনের বহু বছর ধরে ছিলো। ২০১৫ সালে আমি যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বার বাংলাদেশে আসি তখনই আমি এখানে আসার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলাম। আমার সেই প্রত্যাশা, সেই কামনা আজ পূর্ণ হলো। আমি নিয়মিতভাবে শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের অনুগামীদের থেকে ভালবাসা ও স্নেহ পেয়েছি। তার পরিবারের সদস্যদের ঘনিষ্টতা পেয়েছি। আজ আমি ঠাকুর বাড়ীর এই দর্শন লাভের জন্য হরিচাঁদ ঠাকুরের আশির্বাদের প্রভাব রয়েছেই বলে মনে করি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, পশ্চিম বঙ্গের ঠাকুর নগরে আমি যখন গিয়েছিলাম সেখানে আমার মতুয়া ভাই-বোনেরা আমাকে নিজেদের পরিবারের সদস্যদের মতো অনেক ভালবেসেছেন। বিশেষ করে বড় মার স্নেহ, মায়ের মতো আশির্বাদ-সেটি আমার জীবনের জন্য এক অমূল্য সময় ছিলো। পশ্চিম বঙ্গের ঠাকুর নগর থেকে বাংলাদেশের ঠাকুর বাড়ী পর‌্যন্ত একই রকমের শ্রদ্ধা রয়েছে। একই রকমের আস্থা রয়েছে। আর একই রকমের অনুভূতি রয়েছে।

মোদী আরো বলেন, আমি বাংলাদেশের জাতীয় অনুষ্ঠানে ভারতের ১৩০ কোটি ভাই বোনের পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভেচ্ছা নিয়ে এসেছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ হওয়ায় আপনাদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। এখানে আসার আগে আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধে গিয়েছিলাম। সেখানে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছি। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব উনার ভিশন আর বাংলাদেশের লোকেদের উপর উনার বিশ্বাস এক উদাহরণ স্বরূপ।

হরিচাঁদ ঠাকুর সম্পর্কে নরেন্দ্র মোদী আরো বলেন, আমরা মানবতার যেই ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি, সেই মূল্যবোধের জন্য শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর সংগ্রাম করেছেন। হরিচাঁদ ঠাকুর নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। নির‌্যাতিত, নিপীড়িত, দলিত, অবহেলিত সমাজ যা কিছু চেয়েছে, যা কিছু পেয়েছে তা শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের মতো কল্পবৃক্ষেরই ফল। শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের দেখানো পথে চলে আজ আমরা সমান ও সামঞ্জস্যপূর্ণ সমাজের দিকে এগিয়ে চলছি।

তিনি আরো বলেন, উনি সেই সময় মহিলাদের শিক্ষা ও তাদের সামাজিক অংশিদারিত্বের জন্য কাজ শুরু করে দিয়ে ছিলেন। আজ আমরা মহিলাদের ক্ষমতায়নের প্রচেষ্টায় সমগ্র বিশ্বকে এগিয়ে যেতে দেখছি। যখন আমরা শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের বার্তা বুঝি, হরিলীলা অমৃত পাঠ করি তখন মনে হয় উনি ভবিষৎকালকে আগেই দেখে নিয়েছিলেন। উনাদের কাছে একটি দিব্যদৃষ্টি ছিলো, একটি অলৌকিত ক্ষমতা ছিলো। পরাধীনতার সেই সময়েও তিনি সমাজকে বাস্তবিক প্রগতির রাস্তা দেখিয়েছিলেন।

নরেন্দ্র মোদী আরো বলেন, ভারত হোক বা বাংলাদেশ হোক হরিচাঁদ ঠাকুরের সামাজিক সংঘবদ্ধতা, অভিন্নতার সেই মন্ত্রেই নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করছে। বিকাশের নতুন লক্ষ্যকে স্পর্শ করছে। শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের জীবন আমাদের আরেকটি শিক্ষা দিয়েছে। উনি ঈশ্বরীয় প্রেমের বার্তা দিয়েছেন। কিন্তু একই সাথে আমাদের কর্তব্যের বিষয়েও সচেতন করেছেন। হরিচাঁদ ঠাকুর আমাদের বলেছেন যে অত্যাচার এবং দুঃখের বিরুদ্ধে লড়াইও এক ধরনের সাধনা। তাঁর লক্ষ কোটি অনুগামী তা সে ভারতেই হোক অথবা বাংলাদেশেই হোক বা অন্য কোথাও হোক- তাঁর দেখানো পথেই চলেছেন। ভারতে শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ঐতিহ্যকে বয়ে নিয়ে চলা শান্তনু ঠাকুর সংসদে আমার সহযোগি।

এর আগে সকাল ১১টা ২১মিনিটে নরেন্দ্র মোদীকে বহন করা হেলকাপ্টার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পরিষদ মাঠের হেলিপ্যাডে অবরতণ করেন। পরে তাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাগত জানিয়ে বঙ্গবন্ধু সমাধী সৌধ কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সকাল ১১টা ৩৯ মিনিটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ বেদীতে পুস্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানান। এরপর নরেন্দ্র মোদী বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের শহীদ সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনা করে প্রার্থনা করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ছোট বোন শেখ রেহানা সাথে ছিলেন।

নরেন্দ্র মোদীর শ্রদ্ধা জানানোর পর ছোট বোন শেখ রেহানাকে সাথে নিয়ে পিতার সমাধতে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে তিনি বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের শহীদ সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

এরপর নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন এবং একটি বকুল গাছের চারা রোপন করেন। পরে তিনি বঙ্গবন্ধু ভবনে রক্ষিত মন্তব্য বহিতে স্বাক্ষর করেন।

এসময় খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল, প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি’র ছেলে ও বাগেরহাট-০২ আসনের শেখ সারহান নাসের তন্ময় উপস্থিত ছিলেন। দুপুর ১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকাপ্টার যোগে টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

টুঙ্গিপাড়ার কর্মসূচী শেষ করে দুপুর ১২টা ১৫ মিনেটে হেলিকাপ্টার যোগে কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দির ঠাকুর বাড়ীতে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুপুর ১২ টা ২৫ মিনিটে ঠাকুর বাড়ীর পাশে নির্মিত হেলপ্যাডে নরেন্দ্র মোদীকে বহন করা একটি হেলিকাপ্টার নামে। পরে তিনি পায়ে হেটে ঠাকুর বাড়ীর মন্দিরে পৌঁছান। এসময় ঠাকুর বাড়ীর সদস্যরা ও মতুয়া ভক্তরা উলুধ্বনি ও শংখের ধ্বনির মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদীকে বরণ করে নেয়। এরপর ১২ টা ৩৯ মিনিটে শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ও শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পূজা আর্চনা করেন ও আশীর্বাদ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

পূঁজা আর্চনা শেষে নরেন্দ্র মোদী ঠাকুর বাড়ীর সদস্যদের সাথে কুশল বিনিময় করেন ও পাশের একটি মাঠে নির্ধারতি মতুয়া ভক্তদের সাথে মনবিনিময় করেন। এসময় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গোপালগঞ্জ-২ আসনের এমপি শেখ ফজুলল করিম সেলিম উপস্থিত ছিলেন।

এসময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, লে. কর্ণেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, খাদ্য মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, ভারতের বনগাঁয়ের এমপি সান্তনু ঠাকুরসহ ঠাকুর পরিবারের সদস্য ও মতুয়া নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচী শেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে ওড়াকান্দি থেকে হেলিকাপ্টার যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

বাংলাদেশ গ্লোবাল ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

সাম্প্রতিক খবর জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন