ঢাকা      রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৫ বৈশাখ ১৪২৮
IMG-LOGO
শিরোনাম

বাউফলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা, বাড়ছে করোনার ঝুঁকি

IMG
07 April 2021, 7:30 PM

পটুয়াখালী, বাংলাদেশ গ্লোবাল: “হাসপাতাল কুড়ায় না কাছায় না, ই- হি- হি, ওয়াক থু, কি গন্ধ, আমাগো দেশের হাসপাতালই ভালো।” কথাগুলো বলেছেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া রোগীর চিকিৎস্যা সেবা নিতে আসা নাজমিন বেগম।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাউফলে বেড়েছে ডায়রিয়া রোগীর প্রকোপ। দিনে প্রায় অর্ধশত রোগী ভর্তী হচ্ছে হাসপাতালে। ডায়রিয়া ও বমি করোনা ভাইরাসের উপসর্গ হওয়ায় আতংকে অনেক রোগীরা ৫০শয্যা হাসপাতালটির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশকে এড়িয়ে ক্লিনিকগুলোতে সেবা নিচ্ছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত বিছানা না থাকায় করিডোরে ডায়রিয়া রোগীদের ভিড়।

ময়লা দুর্গন্ধ ও শ্যাতশ্যাতে পরিবেশে ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের স্যালাইন লাগিয়ে পাশে বসে সুস্থতার জন্য সময় পাড় করছেন স্বজনরা। অন্যান্য সময় ডায়রিয়া রোগী গড়ে ৮-১০জন ভর্তী থাকলেও ২ এপ্রিল থেকে রোগী সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ জনেরও অধিক। বিছানা না থাকায় বাথারুমের পাশে বারান্দায় চলাচলের পথে সেবা নিতে হচ্ছে রোগীদের।

একদিকে নোংরা আবর্জনা অপরদিকে চলছে ডায়রিয়ার স্যালাইন। হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে অনেক রোগীরাই বাধ্য হয়ে হাসপাতাল সন্নিকেটে ক্লিনিকগুলোতে সেবা নিচ্ছে।

উপজেলার পাতিলাপাড়া গ্রামের খালেদা বেগম জানান, দুই বছর বয়সী কন্যার গত সোমবার থেকে পাতলা পায়খানা। কিছু খাওয়ালেই বমি করতে করতে নিস্তেজ হয়ে পরে। হাসপাতালে ভর্তী করার পরে এখন পাতলা পায়খানা কম করছে।

রোগীর সাথে আসা দশমিনা উপজেলার বহরমপুর ইউপির নাজমিন নাহার বলেন, “হাসপাতাল কুড়ায় না কাছায় না, ই হি হি, ওয়াক থু, কি গন্ধ, আমাগো দশমিনা’র হাসপাতালই ভালো।” কালাইয়া ইউপির ছোবহান মিয়া (৬৫) ও তার নাতী সাব্বির (৯) ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বজনরা জানান, সকালে ডিম ভাজা দিয়ে পানি ভাত খেয়েছে। খাওয়া দাওয়ায় কোন অনিয়ম হয়নি। দুপুর থেকে ছোবহান মিয়া ডায়রিয়ার সাথে শ্বাসকষ্টও বোধ করছেন। এরমধ্যে শুরু হলো নাতীরও পায়খানা। তবে হাসপাতালে ভর্তীর পরে এখন দুজনেই সুস্থ।

হাসপাতালের ইনচার্জ ও স্টাফ নার্স আকলিমা জানান, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটিতে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর বিছানা আছে ১২টি। সেই বিছানার বিপরীতে বুধবার (৭ এপ্রিল)) দুপুর পর্যন্ত রোগী ভর্তী আছে ৪৬ জন। গড়ে প্রতিদিন ৪৩ জন ডায়রিয়া রোগী চিকিৎস্যা সেবা নিচ্ছে। গত ১ সপ্তাহে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে ৩শত ডায়রিয়ার রোগী চিকিৎস্যা সেবা নিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধারাই বেশি।

ডায়রিয়ার রোগীর ব্যাপকতায় করোনা ভাইরাসের কোন সম্পর্ক আছে কিনা জানতে চাইলে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আবাসিক চিকিৎস্যক (আরএমও) ডা: আবদুর রউফ জানান, ডায়রিয়া ও বমি করোনা ভাইরাসের লক্ষণ। সম্প্রতি করোনা ভাইরাস বেড়েছে। ডায়রিয়া রোগী বাড়ার সাথে করোনার সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে আমরা সকল রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখছি। হাসপাতালের নোংরা পরিবেশ বিষয় বলেন, জনবল না থাকায় প্রতিনিয়তই সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছি।

বাংলাদেশ গ্লোবাল ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

সাম্প্রতিক খবর জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন