ঠাকুরগাঁও, বাংলাদেশ গ্লোবাল: আওয়ামী লীগের নিরপরাধ সমর্থনকারীদের পাশে বিএনপি থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার বিকেলে নিজ নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁও-১ আসনের মোলানি বাজার এলাকায় এক পথসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, 'এবার তো নৌকা নেই, নৌকা পালিয়েছে, শেখ হাসিনা ভারতে চলে গেছে। মাঝখানে তার সমর্থনকারীদের বিপদে ফেলে গেছে। আমরা সেই বিপদে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি।' তিনি বলেন, 'আমরা পরিষ্কারভাবে বলছি হিন্দু ভাই-বোনদের, আপনারা কোনো চিন্তা করবেন না, আমরা আছি আপনাদের পাশে। যারা অন্যায় করছে, তাদেরই শুধু শাস্তি হবে। যারা অন্যায় করেনি, সাধারণ মানুষ, তাদের আমরা বুকের মধ্যে রেখে দিবো, আগলে রাখবো।'
২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রতিরোধের ডাক দিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'এই ছেপড়িকুড়ি এলাকায় প্রিসাইডিং অফিসার হত্যা মামলায় এই এলাকার মানুষের অনেক কষ্ট হয়েছে। প্রচণ্ড শীতের মধ্যে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত আপনারা ধান খেতে ছিলেন, বহু ঝামেলা হয়েছে। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে সেই ঝামেলা শেষ করা গেছে।'
মির্জা ফখরুল বলেন, 'এখন দেশের মানুষ আরামে থাকলেও পুরোপুরি আরামে নেই। কারণ, দেশে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে এখন ভালো হয়েছে—এটা আমার কাছে মনে হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন একটা সময় এসেছে যে রাতে আমরা শান্তিতে ঘুমাতে পারছি।'
তিনি বলেন, 'আল্লাহর হুকুমে যদি নির্বাচনটা ঠিক মতো হয় এবং আমরা ঠিকমত ভোট দিতে পারি, ভোট দিয়ে একটা সরকার নির্বাচন করতে পারি, তাহলে আমরা ভালো থাকবো বলে আশা করছি।' নিজের বার্ধক্য ও এটাই তার শেষ নির্বাচন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, 'এই শেষ ভোটে আপনারা আমাকে দয়া করে সমর্থন দেবেন।'
তিনি বলেন, 'আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে আপনাদের সিদ্ধান্ত দিতে হবে যে, আপনারা কি চান। দেশে যদি শান্তি চান, উন্নয়ন চান, স্কুল-কলেজের উন্নয়ন চান, রাস্তা-ঘাট চান, ছেলেমেয়েদের চাকরি চান, তাহলে পরীক্ষিত যে দলটা আছে, মানুষটা আছে, তাকেই ভোট দিতে হবে।'
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আজ খবরের কাগজ খুলে দেখি, ২০০১ সালে যে দলটি আমাদের সঙ্গে সরকার গঠন করেছিল, তাদের দু’জন মন্ত্রীও ছিল—নিজামী ও মুজাহিদ সাহেব, এখন তারা বলছে আমরা নাকি তখন দুর্নীতি করেছিলাম। তাহলে তুমি কি ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির ছিলে? সরকারে তো তুমিও ছিলে, তোমারও তো কাঁধে সেটা আসে। তাহলে দুর্নীতির ভার তোমাকেও নিতে হবে।'
'আমরা কোনো দুর্নীতি করিনি' উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আমরা দেশকে সে সময় সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছি। সেই সময় বাংলাদেশে ১৫ লাখ নারী পোশাক শ্রমিক কাজ করতো, মেয়েদের এইচএসসি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যার ফলে মেয়েরা উচ্চ শিক্ষা নিতে পারছে।'
ব্রেকিং নিউজ, এই মুহূর্তের খবর, প্রতিদিনের সর্বশেষ খবর, লেটেস্ট নিউজ এবং গুরুত্বপূর্ণ আপডেট নিউজ পেতে ভিজিট করুন www.bangladeshglobal.com