ঢাকা, বাংলাদেশ গ্লোবাল: পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে তোলা টাকাকে চাঁদাবাজি বলে মনে করেন না সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এই অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেছেন, তারা এই টাকাটা সমঝোতার ভিত্তিতে তুলছে। জোর করে আদায় করছে না। এ জন্য চাঁদা বলা যাচ্ছে না। আজ বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। নতুন সরকারে দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে বিকেলে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন মন্ত্রী। এ সময় ওই তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও রাজীব আহসান উপস্থিত ছিলেন।
পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘সড়কে পরিবহনের চাঁদা যেটা বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখি না। মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি আছে, তারা তাদের কল্যাণে এটা ব্যয় করে। এটা অলিখিত বিধির মতো। চাঁদা আমি সেটাকে বলতে চাই, যেটা কেউ দিতে চায় না বা বাধ্য করা হয়। মালিক সমিতি নির্দিষ্ট হারে টাকা তুলে মালিকদের কল্যাণে ব্যবহার করতে চায়। কতোটুকু ব্যবহার হয়, সেটা নিয়ে হয়তো বিতর্ক আছে। কিন্তু তারা সমঝোতার ভিত্তিতে এ কাজটা করে।’
রবিউল আলম আরও বলেন, ‘শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনসহ অনেক সংস্থা আছে। তারা এটা সমঝোতার ভিত্তিতে করে (টাকা তোলে)। সেখানে আবার প্রাধান্য পায় যখন যার প্রভাব থাকে, এমন মালিকদের বা দলের প্রভাব থাকে। যে দল ক্ষমতায় থাকে, সেই দলের শ্রমিক সংগঠনের একটা আধিপত্য থাকে। কিন্তু এটা চাঁদা আকারে আমাদের কাছে দেখার সুযোগ হচ্ছে না। কারণ, তারা সমঝোতার ভিত্তিতে করছে।’ তবে সমঝোতার ভিত্তিতে তোলা চাঁদাটা বাড়তি কি না, তা সরকার খতিয়ে দেখবে বলে জানান সড়ক পরিবহন মন্ত্রী।
সরকারের অগ্রাধিকার সম্পর্কে বলতে গিয়ে রবিউল আলম বলেন, নতুন সরকার রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনাকে জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে কাজ শুরু করেছে। রেল সম্প্রসারণ, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, খাল পুনঃখনন ও সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থাপনা—এসব খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।
ঢাকার প্রধান সড়কে ব্যাটারি চালিত অটো রিকশার অবাধ চলাচল ও যানজট সৃষ্টির বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনার কথা জানিয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, অটো রিকশা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব কি না, নাকি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে এনে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—সে বিষয়ে সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।
রেল খাতে দীর্ঘসূত্রতা ও সমন্বয়হীনতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক জায়গায় রেল লাইন নির্মাণ শেষ হলেও ইঞ্জিন ও বগির অভাবে ট্রেন চালু করা যায়নি। কোথাও ইঞ্জিন এসেছে, কিন্তু বগি নেই—এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রেল খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। দেশের ভেতরেই ইঞ্জিন ও বগি তৈরি করা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সমন্বয় আনার মাধ্যমে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ব্রেকিং নিউজ, এই মুহূর্তের খবর, প্রতিদিনের সর্বশেষ খবর, লেটেস্ট নিউজ এবং গুরুত্বপূর্ণ আপডেট নিউজ পেতে ভিজিট করুন www.bangladeshglobal.com