ঢাকা, বাংলাদেশ গ্লোবাল: বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতি ও ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে শুরু হয়েছে অমর একুশে বইমেলা-২০২৬। এবারের বইমেলার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বই মেলার উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫ প্রদান করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বই মেলা শুধু বই বিপণনের স্থান নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন আমাদের শিখিয়েছে যে ভাষা আমাদের প্রাণ, আমাদের অস্তিত্ব ও স্বাধীনতার উচ্চারণ। ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকেই বই মেলার জন্ম।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির এই সময়ে আমরা যেন বই থেকে বিমুখ না হই। বই জ্ঞানের আলোকবর্তিকা, যা একটি জাতির মানসিক বিকাশ ও মানবিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, নবগঠিত সরকার সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা বিস্তার, নতুন লেখকদের উৎসাহ প্রদান, গবেষণা ও অনুবাদ কার্যক্রম উন্নয়ন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বাংলা ভাষার সমৃদ্ধ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক পাঠ করা হয়। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পর সমবেত কণ্ঠে গাওয়া হয় অমর একুশের গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বাংলা একাডেমি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
এ সময় মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গণআন্দোলনে শহীদদের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সাংস্কৃতিক চেতনার ভিত্তিতেই এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, সরকারের দৃঢ় প্রত্যয়, মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ ও প্রকাশকদের সহযোগিতায় এবারের বই মেলার আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। রোজা ও ঈদের আবহে বই মেলা নতুন অভিজ্ঞতা এনে দেবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা ও সংস্কৃতি সচিব মো. মফিদুর রহমান।
উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। পরে মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। মেলা ১৫ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন (ছুটির দিন ছাড়া) দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিনে মেলা চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।
বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা যায়, এবারের মেলায় মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মোট ইউনিট সংখ্যা ১ হাজার ১৮টি। গত বছর অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ৭০৮টি এবং ইউনিট ছিল ১ হাজার ৮৪টি।
ব্রেকিং নিউজ, এই মুহূর্তের খবর, প্রতিদিনের সর্বশেষ খবর, লেটেস্ট নিউজ এবং গুরুত্বপূর্ণ আপডেট নিউজ পেতে ভিজিট করুন www.bangladeshglobal.com