ঢাকা      শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩
শিরোনাম

পেনাংয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের চিত্তবিনোদন ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

IMG
25 April 2026, 2:48 PM

আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া: মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের কল্যাণ, মানসিক প্রশান্তি ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে “মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের চিত্তবিনোদন ও মিলনমেলা ২০২৬” উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুর এবং পারকেসো-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) পেনাংয়ের সেবারাং জায়া, নেগারি পুলাও পিনাং-এ অবস্থিত পেজাবাত পারকেসোতে অনুষ্ঠিত হয়।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পারকেসো-এর ফরেন ওয়ার্কার্স ডিভিশনের প্রধান হারিরি হারুন এবং ডিরেক্টর পুয়ান রাফিদাহ বিনতি আব্দুল রহিম।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পারকেসোর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধি, রেমিট্যান্স হাউসের প্রতিনিধি, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ এবং রাজ্যের বিভিন্ন খাতে কর্মরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী। তাদের উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানস্থল পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়, যা পুরো পরিবেশকে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক মর্যাদায় উজ্জীবিত করে। এরপর পারকেসো কর্তৃক প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয় পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে। এতে কর্মীদের নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

এরপর বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিস্টার (শ্রম) মো. সিদ্দিকুর রহমান স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি প্রবাসী কর্মীদের অবদান ও তাদের অধিকার সুরক্ষায় দূতাবাসের চলমান কার্যক্রম তুলে ধরেন। একই সঙ্গে একটি প্রামাণ্য ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের জীবন সংগ্রাম, সফলতা ও অবদানের চিত্র ফুটে ওঠে।

অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে পারকেসো পেনাং স্টেটের ডিরেক্টর, কমিউনিটি প্রতিনিধি, রেমিট্যান্স হাউসের প্রতিনিধি, নিয়োগকর্তা (এমপ্লয়ার) প্রতিনিধি, ডেপুটি হাইকমিশনার এবং হাইকমিশনার বক্তব্য প্রদান করেন।

বক্তারা প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ, অধিকার সুরক্ষা এবং মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, প্রবাসী শ্রমিকরা শুধু অর্থনৈতিক অবদানই রাখছেন না, বরং দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের সেতুবন্ধন হিসেবেও কাজ করছেন।

আলোচনা শেষে প্রবাসী কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন হাইকমিশনার এবং পারকেসোর প্রতিনিধিরা। প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ ও প্রত্যাশা ধৈর্য সহকারে শোনা হয় এবং সমাধানের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের “রেমিট্যান্স যোদ্ধা” হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা, অধিকার এবং কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের যেকোনো সমস্যায় দ্রুত সেবা প্রদানের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। হাইকমিশনার প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

পারকেসো-এর প্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্যে প্রবাসী কর্মীদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বীমা সুবিধা এবং কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তারা বলেন, বিদেশি শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারকেসো বিভিন্ন সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে।

তারা বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও সহজ সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীরা এ ধরনের আয়োজনকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন। তারা বলেন, এমন মিলনমেলা তাদের মানসিক প্রশান্তি দেয় এবং নিজেদের সমস্যাগুলো সরাসরি কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে।

অনেক কর্মী তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন এবং ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন এ ধরনের আয়োজন করার অনুরোধ জানান। তারা হাইকমিশন ও পারকেসোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

দিনব্যাপী এই কর্মসূচির শেষাংশে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রবাসী শিল্পীরা সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে পুরো পরিবেশকে আনন্দময় করে তোলেন। প্রবাসী কর্মী নজরুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক রাজ, মো. ফয়সাল আহমেদসহ অন্যান্য শিল্পীরা দেশীয় ও আধুনিক গান পরিবেশন করেন।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শকরা করতালি ও উচ্ছ্বাসের মাধ্যমে শিল্পীদের উৎসাহিত করেন। প্রবাসে থেকেও দেশের সংস্কৃতির এমন উপস্থাপনা সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।

সব মিলিয়ে “চিত্তবিনোদন ও মিলনমেলা ২০২৬” প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একটি সফল, অর্থবহ ও স্মরণীয় আয়োজন হিসেবে পরিণত হয়। এটি শুধু বিনোদনের সুযোগই নয়, বরং প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ হাইকমিশন ও পারকেসোর এই যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও প্রবাসীদের জন্য আরও কার্যকর ও মানবিক সেবা নিশ্চিত করবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্রেকিং নিউজ, এই মুহূর্তের খবর, প্রতিদিনের সর্বশেষ খবর, লেটেস্ট নিউজ এবং গুরুত্বপূর্ণ আপডেট নিউজ পেতে ভিজিট করুন www.bangladeshglobal.com

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন