ঢাকা      শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ৩১ বৈশাখ ১৪২৮
IMG-LOGO
শিরোনাম

মিনা পাল থেকে ঢাকাই চলচ্চিত্রের 'মিষ্টি মেয়ে' কবরী (ভিডিও)

IMG
17 April 2021, 8:10 AM

ঢাকা, বাংলাদেশ গ্লোবাল: সত্তর ও আশির দশকে বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শহুরে মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্তরাও কবরীকে যতটা নিজেদের মানুষ হিসেবে ভাবতে পেরেছিলেন, ততটা হয়তো বাংলাদেশের সিনেমা জগতে অন্য কোনো অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে পারেননি। আর সেজন্যই 'মিষ্টি মেয়ে' নামে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন তিনি।

কৈশোর আর যৌবনের পাট চুকিয়ে ফেলার পরও 'মিষ্টি মেয়ে' হিসেবে কবরীর সেই গ্রহণযোগ্যতা সবসময়ই ছিল। ২০১১ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, 'এখনও দেখা হলে কেউ কেউ বলে, 'আপনি ঠিক আগের মতই আছেন।' কিন্তু কেউ কি কখনো একরকম থাকতে পারে! তখন আমি তাকে বলি, আপনি আমাকে ভীষণ ভালোবাসেন বলেই এরকম মনে হয়।'

অভিনেতা হিসেবে মানুষের হৃদয়ের কাছে যেতে পারা, মানুষের ভালোবাসার পাত্র হতে পারাটাই কবরীর সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করেন খ্যাতিমান অভিনেতা সোহেল রানা। তাঁর মতে, কবরী তাঁর অভিনয় দিয়ে মানুষকে যতটা প্রভাবিত করতে পেরেছেন, তেমনটা আর কেউ পারেননি।

'মিষ্টি মেয়ে' ছাড়া তিনি 'পাশের বাড়ির মেয়ে' হিসেবেও খ্যাত ছিলেন। কারণ কবরীর চেহারায়, আচরণে, অভিনয়ে সেই বিষয়টা ছিল। খুব বেশি মেকআপ করতেন না, এমনকি চুলটাও একদম সাধারণ একটা মেয়ের মত রাখতেন। যার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে খুব আপন হয়ে ধরা দিতো।'

১৯৫০ সালে চট্টগ্রামে জন্ম হয় কবরীর। তাঁর আসল নাম ছিল মিনা পাল। ১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের সুতরাং ছবির মধ্য দিয়ে সিনেমায় অভিষেক, সেসময়ই নতুন নাম হয় কবরী। তিনি নিজেই বলেছিলেন, 'সুতরাং' সিনেমার কিশোরী কবরী দর্শকদের কাছে যে এতোটা জনপ্রিয়তা পাবে, সেটা ভাবতেই পারেননি।

শুরুর দিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসে তাঁকে প্রচুর রিহার্সাল করতে হয়েছিল 'ভাষা থেকে চাঁটগাইয়া আঞ্চলিক টান' এবং কথায় 'নাকি নাকি ভাব' দূর করতে। কবরীর ভাষায়, 'চোখ তুলে তাকাতে সাহস পেতাম না, খুব লজ্জা পেতাম। সব দত্তদা (সুভাষ দত্ত) শিখিয়েছেন। কিন্তু 'সুতরাং'এর পর আমাকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি।'

এরপরের দুই দশকে 'রংবাজ', 'নীল আকাশের নীচে', 'দ্বীপ নেভে নাই', 'তিতাস একটি নদীর নাম', 'সুজন সখী', 'সারেং বৌ'-এর মত বহু ব্যবসা সফল এবং আলোচিত সিনেমায় প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেন কবরী।

নায়ক রাজ রাজ্জাকের সাথে তাঁর জুটি এদেশের চলচ্চিত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও আলোচিত জুটি। কিংবদন্তী তুল্য এই জুটি দর্শকদের কাছে যতটা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল, তার ধারে কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি আর কোনো জুটি।

এ প্রসঙ্গে কবরী বলেছিলেন, 'আমার অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যায়। প্রেম করা আমার হয়ে ওঠেনি। কিন্তু রাজ্জাকের সাথে অভিনয় করার সময় এক ধরণের রোমাঞ্চ অনুভব করতাম আমি।' কবরী মনে করতেন, রাজ্জাকের সাথে অভিনয়ের সময় তাদের দু'জনের আবেগের অকৃত্রিমতার কারণেই জুটির রসায়ন মানুষের মনে দাগ কেটেছে।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তী সময়ে বা যুদ্ধ পরবর্তী উত্তাল সময়গুলোতে রাজ্জাক-কবরী জুটি তৎকালীন প্রেক্ষাপটে সমাজের সাধারণ মানুষের চিন্তাধারার প্রতিনিধিত্ব করতো এবং মানুষকে মানসিকভাবে স্বস্তি দিয়েছিল বলে এই জুটি মানুষের মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে বলে মনে করেন সিনেমা গবেষকরা।

কবরী ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সিনেমায় অভিনয় ছাড়াও সিনেমা প্রযোজনা এবং পরিচালনার সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। একাধিকবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার।

বাংলাদেশ গ্লোবাল ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

সাম্প্রতিক খবর জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন