ঢাকা      শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ৩১ বৈশাখ ১৪২৮
IMG-LOGO
শিরোনাম

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী কবরী (ভিডিও)

IMG
17 April 2021, 2:42 PM

হৃদয় মাহমুদ, বাংলাদেশ গ্লোবাল: রাজধানীর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী। আজ শনিবার (১৭ এপ্রিল) বাদ জোহর বনানী কবরস্থান এলাকায় তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শুরুর আগে বনানী কবরস্থানের সামনে মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য কবরীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।

বনানী কবরস্থানে শেষবারের মতো বরেণ্য এই অভিনেত্রীকে বিদায় জানাতে এসেছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান, অভিনেত্রী সোহানা সাবা, নিশাত সালওয়াসহ আরও অনেকে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামের পক্ষে তাঁকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। শ্রদ্ধা জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে খ্যাতিমান এই অভিনয় শিল্পী শুক্রবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে নগরীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। রাতে তাঁকে হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়। সেখান থেকে কবরীর মরদেহ নেয়া হয় মোহাম্মদপুরের আল মারকাজুলে।

সেখানে গোসল করানো শেষে তাঁর মরদেহ গুলশান ২ নম্বর এলাকার লেক রোডের বাড়িতে শেষবারের মতো নেয়া হয়। কিছুক্ষণ রাখার পরে কবরীকে জোহরের আগেই নিয়ে যাওয়া হয় বনানী কবরস্থান এলাকায়। এরপর সেখানেই গার্ড অব অনার এবং জানাজা শেষে তাঁকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

খুসখুস কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে করোনার নমুনা পরীক্ষা দেন সারাহ বেগম কবরী। গত ৫ এপ্রিল দুপুরে পরীক্ষার ফল হাতে পেলে জানতে পারেন, তিনি করোনা পজিটিভ। ওই রাতেই তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

৭ এপ্রিল রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-এ নেয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। অনেক চেষ্টার পর ৮ এপ্রিল দুপুরে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে কবরীর জন্য আইসিইউ পাওয়া যায়। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।

১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় কবরীর। ১৯৬৫ সালে অভিনয় করেন ‘জলছবি’ ও ‘বাহানা’য়, ১৯৬৮ সালে ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘আবির্ভাব’, ‘বাঁশরি’, ‘যে আগুনে পুড়ি’। ১৯৭০ সালে ‘দীপ নেভে নাই’, ‘দর্পচূর্ণ, ‘ক খ গ ঘ ঙ’, ‘বিনিময়’ ছবিগুলোয় অভিনয় করেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি চলে যান তিনি। সেখান থেকে পাড়ি জমান ভারতে। কলকাতায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে বিভিন্ন সভা-সমিতি ও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন কবরী।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আবারও চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন কবরী। শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক পরিচালিত ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। নায়ক রাজ রাজ্জাকের সঙ্গে ‘রংবাজ’ পায় বেশ জনপ্রিয়তা।

১৯৭৫ সালে নায়ক ফারুকের সঙ্গে ‘সুজন সখী’ ছাড়িয়ে যায় আগের সব জনপ্রিয়তাকে। এরপর কেবলই এগিয়ে চলা সামনের দিকে। জনপ্রিয় ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আগন্তুক’, ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘ময়নামতি’, ‘সারেং বৌ’, ‘দেবদাস’, ‘হীরামন’, ‘চোরাবালি’, ‘পারুলের সংসার’।

৫০ বছরের বেশি সময় চলচ্চিত্রে রাজ্জাক, ফারুক, সোহেল রানা, উজ্জ্বল, জাফর ইকবাল ও বুলবুল আহমেদের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। ঢাকার চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি ছিল রাজ্জাক-কবরী।

২০০৫ সালে ‘আয়না’ নামের একটি ছবি নির্মাণের মাধ্যমে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন কবরী। এমনকি ওই ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে তিনি অভিনয়ও করেছিলেন। এরপর রাজনীতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। ২০০৮ সালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কবরী।

এছাড়াও তিনি যুক্ত ছিলেন অসংখ্য নারী অধিকার ও সমাজসেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭-তে প্রকাশিত হয় তাঁর আত্মজীবনীমূলক বই ‘স্মৃতিটুকু থাক’।

১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে জন্মগ্রহণ করেন কবরী। তাঁর আসল নাম ছিল মিনা পাল। বাবা শ্রীকৃষ্ণ দাস পাল এবং মা লাবণ্য প্রভা পাল। ১৯৬৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে উঠেছিলেন তিনি। তারপর টেলিভিশন ও সবশেষে সিনেমায়।

কবরী বিয়ে করেন চিত্ত চৌধুরীকে। সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর ১৯৭৮ সালে তিনি বিয়ে করেন সফিউদ্দীন সরোয়ারকে। ২০০৮ সালে তাঁদেরও বিচ্ছেদ হয়ে যায়। কবরী পাঁচ সন্তানের মা।

বাংলাদেশ গ্লোবাল ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

সাম্প্রতিক খবর জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন