ঢাকা      শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ৩১ বৈশাখ ১৪২৮
IMG-LOGO
শিরোনাম

ডিউক অব এডিনবরা প্রিন্স ফিলিপের শেষকৃত্য সম্পন্ন

IMG
18 April 2021, 1:30 AM

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, বাংলাদেশ গ্লোবাল: ব্রিটেনের উইণ্ডসর দুর্গে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্বামী ডিউক অব এডিনবরা প্রিন্স ফিলিপের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। গত ৯ এপ্রিল উইণ্ডসর ক্যাসেলে প্রিন্স ফিলিপ মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৯ বছর। উইণ্ডসর দুর্গের প্রাসাদের ভেতরেই অবস্থিত সেন্ট জর্জেস চ্যাপেলে তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে।

রাজকীয় এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত আটটায়। মৃত্যুর আগে প্রিন্স ফিলিপ ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন যে, তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা যেন ন্যূনতম মাত্রায় রাখা হয়। তাঁর মরদেহ সাধারণ জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শায়িত রাখা হয়নি। তবে শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানটি টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

ইংল্যান্ডে এখন করোনাভাইরাস মহামারিজনিত যেসব বিধিনিষেধ জারি রয়েছে, তার সাথে সংগতি রেখে এই শেষকৃত্যানুষ্ঠানে মাত্র ৩০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখেন এবং মাস্ক পরে ছিলেন। অতিথিদের তালিকায় ছিলেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও ডিউক অব এডিনবরার পরিবারের সদস্যরা এবং ডিউক অব এডিনবরার তিনজন জার্মান সদস্য।

এতে যোগ দেয়ার জন্য ডিউকের নাতি প্রিন্স হ্যারি - যিনি গত বছর রাজ পরিবারের সক্রিয় ঊর্ধ্বতন সদস্যের দায়িত্ব ত্যাগ করেছেন - তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্রিটেনে আসেন। তবে তাঁর স্ত্রী মেগান সন্তান সম্ভবা হওয়ার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেননি।

শেষকৃত্যের শুরুতে ডিউকের মরদেহ উইণ্ডসর দুর্গের প্রাইভেট গির্জা থেকে দুর্গের রাষ্ট্রীয় প্রবেশপথে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাঁর মরদেহ একটি জলপাই রঙের ল্যান্ড রোভারে করে উইণ্ডসর দুর্গের ভেতরেই সেন্ট জর্জেস চ্যাপেল নামের গির্জায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই বিশেষ ল্যান্ড রোভার গাড়িটিই শববাহী গাড়ি হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে। কারণ প্রিন্স ফিলিপ নিজে এটি অনেক দিন ব্যবহার করেছেন এবং এটিতে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে, তাতেও তিনি নিজে ভূমিকা রেখেছেন।

এর পেছনে ছিলেন রানি ও ডিউকের চার সন্তান প্রিন্স চার্লস, এ্যান্ড্রু, এডওয়ার্ড এবং প্রিন্সেস অ্যান। আরো ছিলেন ডিউকের দুই নাতি প্রিন্স উইলিয়াম ও হ্যারি। সাথে ছিলেন পরিবারের অন্য কিছু সদস্য এবং ডিউকের কর্মচারীরা।

উইণ্ডসর দুর্গের ভেতরের ঘাসে আচ্ছাদিত চতুষ্কোণ জায়গাটিতে ডিউকের মরদেহ শববাহী গাড়িতে ওঠানো হয়। সেখানে এর আগে থেকেই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো ছিল হাউজহোল্ড ক্যাভালরি, ফুট গার্ড এবং ডিউকের সাথে বিশেষ যোগাযোগ ছিল - এমন সেনা ইউনিটের ছোট কয়েকটি দল।

মূল শোভাযাত্রার শুরুতে ছিল গ্রেনাডিয়ার গার্ড নামে সামরিক বাদক দল। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ স্বয়ং রাজকীয় বেন্টলি গাড়িতে করে শোভাযাত্রার পেছনে ছিলেন। এসময় দুর্গের ভেতর তোপধ্বনি এবং গির্জার ঘন্টা ধ্বনি করা হয়। ডিউকের মরদেহ তাঁর মর্যাদা সূচক নিজস্ব পতাকা দিয়ে ঢাকা ছিল। তার ওপর ছিল পুষ্পস্তবক এবং ডিউকের নৌবাহিনীর টুপি ও তরবারি।

সেন্ট জর্জেস চ্যাপেলে শোভাযাত্রার সাথে মিলিত হন আর্চ বিশপ অব ক্যান্টারবারি - যিনি এ্যাংলিকান চার্চের প্রধান। মূল অনুষ্ঠানে ডিউকের স্মরণে পুরো ব্রিটেন জুড়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়, যা শুরু ও শেষ হয় তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে। এরপর গির্জার ভেতরে কফিন নিয়ে যাওয়া হয় এবং তা একটি মঞ্চের ওপর রাখা হয়। চারজন সঙ্গীত শিল্পীর একটি দল ডিউকের পছন্দের কয়েকটি গান পরিবেশন করেন।

এরপর গির্জার আনুষ্ঠানিকতা বা সার্ভিস শেষ হলে ডিউককে সেন্ট জর্জেস চ্যাপেলের রাজকীয় ভল্টে সমাহিত করা হয়। করোনাভাইরাস সংক্রান্ত স্বাস্থ্যগত বিধিনিষেধের কারণে ব্রিটেনের জনগণকে এই শেষকৃত্যের কোন অনুষ্ঠানে যোগ না দিতে বলা হয়। অনুরোধ করা হয়, তারা যেন রাজ প্রাসাদের সামনে ফুল ইত্যাদি না দিয়ে বরং ডিউক যেসব দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন- সেগুলোতে অর্থ দান করেন। তাছাড়া একটি অনলাইন শোক বই খোলা হয়। যাতে জনসাধারণ তাদের ব্যক্তিগত বার্তা দিয়ে শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।

এই শেষকৃত্যানুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে ব্রিটেনে জাতীয় শোক পালন শেষ হলো। তবে রাজ পরিবার আরো এক সপ্তাহ ধরে শোক পালন করবে। তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার সময় তারা কালো পোশাক পরবেন।

বাংলাদেশ গ্লোবাল ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

সাম্প্রতিক খবর জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন