ঢাকা      শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮
IMG-LOGO
শিরোনাম

রহস্যজনক আগুন আতঙ্ক: সন্দেহভাজন ১২জন আটক

IMG
03 May 2021, 1:49 AM

ঠাকুরগাঁও, বাংলাদেশ গ্লোবাল: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে দীর্ঘ একমাস ধরে অগ্নিকান্ডের ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সন্দেহভাজন দুই নারীসহ ছয় পরিবারের ১২জনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। শনিবার (০১ মে) দিবাগত রাতে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ছোটসিঙ্গীয়া মুন্সিপাড়া থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটক ছয় পরিবারের প্রধানরা হলেন, দেলোয়ার হোসেন, কফিলউদ্দিন, এহতেশাম, নিজামউদ্দিন, মোকসেদ আলী, মো. মিন্টু।

গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মোসাব্বেরুল হক জানান, দীর্ঘ এক মাস ধরে ওই গ্রামের বাসিন্দাদের ঘরবাড়িতে আগুন লেগে ক্ষতিসাধিত হচ্ছিল। অনেকে আতঙ্কে তাদের সন্তানদের আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে রেখে আসে। কিন্তু আগুনের সূত্রপাত উম্মোচিত হচ্ছিল না। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নগদ টাকা, খাদ্য সামগ্রী ও ঢেউটিন দেওয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, অগ্নিকান্ডের এই রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলে আটক সন্দেহভাজন ১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানোর যোগ সূত্র পাওয়া যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে গত ২৯ এপ্রিল থেকে ওই গ্রামে প্রায় প্রতিদিনই কারও না কারও বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে। ওইদিন অগ্নিকান্ডে সালেহা বেগম নামে এক নারী বালিয়াডাঙ্গী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার সূত্র ধরেই তদন্তে নেমেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

উল্লেখ্য, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ওই গ্রামে প্রায় এক মাস ধরে বাড়ি ঘরে, আসবাবপত্রে, খাটে, কাপড়ে হঠাৎ করে আগুন লাগছিল। হঠাৎ করে যেখানে সেখানে আগুন লাগছিল। আর এতে আতঙ্কে ছিল ঐ গ্রামের পরিবারগুলো।

পরিবারগুলো জানান, অলৌকিকভাবে প্রতিদিন ৩-৪ বার আগুন ধরছে বাড়ির বিভিন্ন স্থানে। কখনো রান্নাঘরে, কখনওবা কাপড়ের ট্রাংকের ভিতর, কখনও ঘরের চালাতে। প্রায় এক মাসে এরকম শতাধিকবার আগুন লেগেছে বিভিন্ন বাড়ি ঘরে। আগুন নেভানোর জন্য ইতিমধ্যে বেশ ৫টি বৈদ্যুতিক সেচ পাম্পও স্থাপন করেছেন গ্রামের লোকজন। বাড়ির উঠানে বারান্দায় হাড়ি পাতিল ও বালতিতে পানি ভরে রেখেছেন সবাই।

মার্চ মাসের ২৯ তারিখে শবে বরাতের রাতে প্রথম আগুনের সুত্রপাত হয়। ওইদিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও পরের দিন ৩০ মার্চ আগুনে ৩টি পরিবারের ঘর-বাড়িসহ আসবাবপত্র পুড়ে গিয়ে ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়। আগুন নেভানোর জন্য বিভিন্ন স্থানে ৫টি সেচ পাম্প বসায় গ্রামবাসী। অনেকে আগুনের ভয়ে মাঠে ও বাইরে কাজ করতে যেতে পারছেনা।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী অফিসার যোবায়ের হোসেন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অলৌকিক আগুন দাবি করলেও বিষয়টি আমরা ভিন্ন ভাবে দেখছি। ধারণা করছি একটি চক্র ষড়যন্ত্র করে পরিবারগুলোর মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার। জড়িতদের সন্ধান পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ গ্লোবাল/এমএফ

বাংলাদেশ গ্লোবাল ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

সাম্প্রতিক খবর জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন