ঢাকা      শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮
IMG-LOGO
শিরোনাম

অপপ্রচার রোধে তথ্য প্রযুক্তির সুফল যথাযথ ব্যবহারের ওপর জোর অধ্যাপক আরেফিনের

IMG
04 May 2021, 12:18 AM

ঢাকা, বাংলাদেশ গ্লোবাল: অপপ্রচার রোধে জনগণের জন্য তথ্য প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন সাবেক ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

তিনি বলেন, আইটির সুবিধা এবং অসুবিধা এর ব্যবহারের উপর নির্ভর করে। এটা ঠিক ছুরির মতো . . . যদি এটি কোনও শল্য চিকিৎসকের কাছে যায়, তবে তিনি একজন রোগীকে সুস্থ করে তুলবে, তবে যদি এটি কোনও দুর্বৃত্তের কাছে যায় তবে সে হত্যার মতো ক্ষতিকারক কিছু করতে পারে।

সোমবার (০৩ মে) ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে স্থানীয় সাংবাদিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক চার দিনের ভার্চুয়াল কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আরেফিন এ মন্তব্য করেন।

জাতীয় সংবাদ সংস্থা (বাসস) এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের বাস্তবায়নাধীন ও ইউএনডিপির সহায়তায় পরিচালিত এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রাম যৌথভাবে এই কর্মশালা আয়োজন করে। বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন এ টু প্রকল্পের পরিচালক ড. আবদুল মান্নান। এর আগে সকালে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব খাজা মিয়া প্রধান অতিথি হিসাবে চতুর্থ ও শেষ কর্মশালার উদ্বোধন করেন।

তথ্যপ্রযুক্তিকে শক্তি হিসাবে আখ্যা দিয়ে অধ্যাপক আরেফিন বলে, আইটি-র শক্তি আমাদের অফিসে না গিয়ে নিজ নিজ বাড়ি থেকে কার্যত প্রোগ্রামে যোগ দিতে সক্ষম করেছে। এ টু আই প্রোগ্রাম এ জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে (আইটির শক্তি ব্যবহার করতে)। তিনি বলেন, ভুল তথ্য সংশোধন করার একটি প্রক্রিয়া রয়েছে, কিন্তু কোন কিছুর অপপ্রচার করা একটি গুরুতর অপরাধ। দেশের বিশিষ্ট এ শিক্ষাবিদ বলেন, অপপ্রচারে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনা উচিত।

বাসস সংবাদদাতাদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (ডিএসএ) সম্পর্কে জানার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ডিএসএ বিবেচনায় নিয়ে আমাদের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। আজ বিশ্বজুড়ে ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে পালনের তাৎপর্য তুলে ধরে অধ্যাপক আরেফিন বলেন, গণমাধ্যম কতটা স্বাধীনভাবে তথ্য প্রচার করছে তার ওপর সমাজের অগ্রগতি নির্ভর করবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান করোনাভাইরাসের মতো সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য পাওয়া মানুষকে সংশ্লিষ্ট পরিষেবা সরবরাহকারীদের কাছ থেকে সহজেই পরিষেবা পেতে সহায়তা করে। এই ধরনের কর্মশালা প্রায়শই আয়োজনের উপর জোর দিয়ে বাসস পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান বলেন, তথ্য প্রযুক্তি এক পর্যায়ে স্থবির হবে না বরং এটি গতিশীলতার সঙ্গে আরও উন্নত হবে।

অধ্যাপক আরেফিন বলেন, সাংবাদিকদের তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে আপডেট রাখার জন্য প্রশিক্ষণের আয়োজন করা ছাড়াও দেশের জনগণকে তথ্য প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার সম্পর্কে অবহিত করাও আমাদের দায়িত্ব। এর আগে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ২০ এপ্রিল কর্মশালার উদ্বোধন করেন। অন্যদিকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ২৭ এপ্রিল দ্বিতীয় কর্মশালায় এবং তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান ২৯ এপ্রিল তৃতীয় কর্মশালায় ভাষণ দেন।

এ টু আই প্রকল্প পরিচালক ড. আব্দুল মান্নান সমাপনী অনুষ্ঠানে তার বক্তৃতায় ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ রূপকল্পকে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এ টু আই-এর উদ্ভাবন এবং এর সেবাতুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ টু আই উদ্ভাবনের পৃষ্ঠপোষকতা, দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার কার্যক্রম পরিচালনা, ম্যানুয়াল পরিষেবাকে ডিজিটাল পরিষেবায় রূপান্তরিত করা, তৃণমূল থেকে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে রূপান্তরসহ বিভিন্ন কাজ করে।

ডিজিটাল ভূমি পরিষেবাদি সম্পর্কে অবহিত করে, এ টু আই প্রকল্প পরিচালক সাংবাদিকদের ডিজিটাল সেবা সম্পর্কিত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান যাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে জনগণকে পরিষেবাগুলো গ্রহণ করতে উৎসাহিত করা যায়। বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলীয় নেতা থাকাকালীন ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ নিয়ে কথা বলেছিলেন এবং এখন প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে তিনি কার্যত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন।

তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-র রূপকল্প ভিশন ঠিক করেছিলেন, তবে শেখ হাসিনা নিজে এবং তাঁর সরকার এটি বাস্তবায়ন করেছে। প্রধানমন্ত্রী জনকল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ রূপকল্প গ্রহণ করেছেন উল্লেখ করে আজাদ বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে সরকারের পদক্ষেপে যারা বাঁধা দিতে চায় তাদের আন্দোলন ও অন্য কর্মকান্ডে নজরদারি রাখার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

বাসস-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুর রহমান, নগর সম্পাদক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মধুসূদন মন্ডল, প্রধান বার্তা সম্পাদক (ইংরেজি) এ জেড এম সাজ্জাদ হোসেন সবুজ এবং প্রধান বার্তা সম্পাদক (বাংলা) রুহুল গণি সরকার জ্যোতি সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। বাসস-এর প্রধান প্রতিবেদক তারেক আল নাসের এবং বিশেষ সংবাদদাতা ও ইনফোটেইনমেন্ট-ইন-চার্জ মাহফুজা জেসমিন এবং এ টু আই কমিউনিকেশন অফিসার মামুনুর রহমান এবং ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট অফ কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া আউটরিচ এ বি এম আদনান ফয়সাল অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সকল জেলা সংবাদদাতা এবং ব্যুরো প্রধানরা সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

বাংলাদেশ গ্লোবাল/এমএফ

বাংলাদেশ গ্লোবাল ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

সাম্প্রতিক খবর জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন