ঢাকা      বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ২ আষাঢ় ১৪২৮
IMG-LOGO
শিরোনাম

লাথিতে গর্ভের সন্তান মৃত্যুর অভিযোগ

IMG
06 May 2021, 8:26 PM

নেত্রকোণা, বাংলাদেশ গ্লোবাল: নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের লাথিতে অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর গর্ভের ৯ মাসের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

ওই নারী ইতোমধ্যে হাসপাতালে একটি মৃত ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। ওই নবজাতকের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের সান্দিকোনা গ্রামে।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বুধবার (৫ মে) রাতে ওই গ্রামে এক সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোসহ অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সার্বিক সহযোগিতারও আশ্বাস দেওয়া হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্বশত্রুতার জের ধরে ওই গ্রামের আবদুস সাত্তারের সঙ্গে প্রতিবেশী আবুল কালামের বিরোধ চলছে। এর জের ধরে সাত্তার ও তার ছেলে বাবু মিয়াসহ সাত্তারের ভাই পাশের খিদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম, হলুদ মিয়া ও লিটন মিয়াসহ তাদের অনুসারীরা গত ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আবুল কালামের ছেলে মাইনুলদের বাড়িতে হামলা চালায়। এতে মাইনুলের বাবা, মা ও স্ত্রী আহত হন। তাছাড়া মাইনুলের ভাই খায়রুল ইসলামের স্ত্রী ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা খাদিজার পেটেও পা দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনিও গুরুতর আহত হন। ওই সময় প্রতিপক্ষের লোকজন মাইনুলদের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটও চালায়।

পরে এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়। বেআইনীভাবে বসতঘরে প্রবেশ করে খুনের উদ্দেশ্যে মারপিট, জখম ও নারীদের শ্লীলতাহানীসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা ওই মামলায় আবদুস সাত্তারকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। তবে গত ৩ মে মামলা হলেও পুলিশ এখনও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারে নি।

এদিকে পেটে লাথির আঘাতে অন্তঃসত্ত্বা খাদিজা গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে গত মঙ্গলবার (৪ মে) সেখানে তিনি একটি মৃত ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। পরে ওই হাসপাতালেই নবজাতকের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এরপর শিশুটির লাশ বাড়িতে এনে ওইদিন রাতেই রাতে দাফন করা হয়।


অপরদিকে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য, দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও এবং বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পাশের খিদিরপুর গ্রাম থেকে বিড়ারিত হয়ে মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলে আবদুস সাত্তার বেশ কয়েক বছর আগে সান্দিকোনা গ্রামে এসে নতুন বাড়ি করেন। কিন্তু এখানে এসেও তিনি তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিবেশীদের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে কয়েক বছর আগে মালে নেওয়াজ নামে এক ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকায় আবদুস সাত্তার ও তার ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আবদুস সাত্তার ও তার অনুসারীদের অত্যাচারে সান্দিকোনা গ্রামের লোকজনও এখন অতিষ্ট হয়ে ওঠেছেন। এমনকি প্রতিটি দাঙ্গা-হাঙ্গামায় সাত্তারের পক্ষ নিয়ে খিদিরপুর গ্রাম থেকে তার ভাই-ভাতিজাসহ অন্যরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ছুটে আসেন। ফলে গ্রাম্যবিরোধ আরও প্রকট হচ্ছে। এ কারণে এখানে যে কোনো সময় বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ব্যাপারে কেন্দুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নোমান সাদেকীন জানান, গৃহবধূ খাদিজার গর্ভের বাচ্চা নষ্ট হওয়ার অভিযোগটি আগের মামলার সঙ্গে যুক্ত হবে।পরে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ গ্লোবাল/এমএন

বাংলাদেশ গ্লোবাল ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

সাম্প্রতিক খবর জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন