ঢাকা      বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
IMG-LOGO
শিরোনাম

এক উঠানে নামাজ, পূজা-অর্চনা

IMG
14 October 2021, 5:38 PM

নিয়াজ আহমেদ সিপন, লালমনিরহাট, বাংলাদেশ গ্লোবাল: একই আঙিনায় মসজিদ ও মন্দির। মিলেমিশে চলছে মুসলিম সম্প্রদায়ের ইবাদত আর হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনা। সময় মত হচ্ছে আজান ও নামাজ, নিয়ম করে চলে পূজা অর্চনাও। এক পাশে ধূপকাঠি, অন্য পাশে আতরের সুঘ্রাণ। এক পাশে উলুধ্বনি, অন্য পাশে চলছে জিকির। এভাবে ধর্মীয় সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যুগ যুগ ধরে চলছে পৃথক দু’টি ধর্মীয় উপাসনালয়।

ধর্মীয় সম্প্রীতির এমন উজ্জ্বল নিদর্শন দেখতে হলে আসতে হবে সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাট শহরে কালীবাড়ী এলাকার পুরান বাজার জামে মসজিদ ও কালীবাড়ী কেন্দ্রীয় মন্দির এলাকায়।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৩৬ সালে কালী মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই সময় লালমনিরহাট শহরে কালীবাড়ী এলাকার পুরন বাজার এলাকায় বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মুসলমান ব্যবসায়ীরা নামাজ করার জন্য তার পাশেই একটি ছোট ঘর তোলেন। আর সেটির নামকরণও করা হয় পুরান বাজার জামে মসজিদ হিসাবে। ওই সময় থেকে এক উঠানে চলছে দুই ধর্মের দুই উপাসনালয়ের কার্যক্রম। পূজা শুরুর আগে মসজিদ ও মন্দির কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নেয়। কোন দিন কোন অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটেনি। এই মন্দির ও মসজিদ দেখতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছে সাধারণ মানুষ। এমন কি কয়েক দেশের রাষ্ট্রদূতরাও এই মন্দির ও মসজিদ দর্শনে এসেছিল।

জানা যায়, আজানের সময় থেকে নামাজের প্রথম জামায়াত শেষ হওয়া পর্যন্ত মন্দিরের মাইক, ঢাক-ঢোলসহ যাবতীয় শব্দ বন্ধ থাকে। নামাজের প্রথম জামায়াত শেষ হলে মন্দিরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়। এখানে কোনো বিশৃঙ্খলাও হয় না। শালীনতা বজায় রেখে একই উঠানে দীর্ঘদিন বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন উভয় ধর্মের মানুষ।

ওই এলাকায় ঘুরতে আসা কয়েকজন জানান, লালমনিরহাটে ধর্মীয় সম্প্রীতির এটি একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যুগ যুগ ধরে এ সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন তারা। সত্যি এটি আমাদের জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়।

পুরান বাজার জামে মসজিদ ইমাম মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ঐতিহ্যবাহী পুরান বাজার মসজিদের পাশেই দুইটি প্রতিষ্ঠান এক সঙ্গে। মসজিদের আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবুও এখানে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সব শ্রেণীর মানুষ স্বাধীনভাবে ঘুরে যান। আমরা তাদের সকল কাছে সহযোগিতা করি। তারাও আমাদের সহযোগিতা করেন। নামাজের সময় মন্দিরের ঢাক-ঢোল বন্ধ রাখা হয়। আযান ও নামাজের সময় টুকু পূজারিরা ঢাক-ঢোলসহ অন্যান্য শব্দযন্ত্র বন্ধ রাখেন। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যুগ যুগ ধরে এ সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন তারা।

কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী মন্দিরের সভাপতি ও প্রধান পুরহিত শংকর চক্রবর্তী জানান, ১৮৩৬ সাথে এটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এলাকাটির নামকরণও করা হয় কালীবাড়ী। পরে এখানে বাজার গড়ে উঠলে বাজারের ব্যবসায়ী ও শহরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মন্দিরের পাশেই প্রতিষ্ঠা করেন পুরান বাজার জামে মসজিদ। সেই থেকে এক উঠানে চলছে দুই ধর্মের দুই উপাসনালয়ের কার্যক্রম। সামান্যতম বিশৃঙ্খলাও হয় না এখানে। জন্মের পর থেকে এভাবে চলতে দেখছেন তিনি। এমন সম্পৃক আজীবন থাকে সবার সহযোগিতা কামনা করেন শংকর চক্রবর্তী।

এদিকে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা মসজিদ ও মন্দিরের প্রাঙ্গণটি দেখতে সোমবার (১১অক্টোবর) সন্ধ্যায় আসেন ঢাকার নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন (উপ প্রধান মিশন) মিঃ কুমার রাই ও রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য।

এসময় রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা যে যুগে আমি মনে করেছি এটা আমাদের জন্য একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হতে পারে। পারাস্পারিক সহযোগিতায় ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষরা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই বন্ধন বলে দেয় বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষরা মুসলিমের সাথে মিলে মিশে রয়েছে। তাই সবাইকে অনুরোধ করছি, এসব বেশি করে প্রচার করে বাহিরে দেশ গুলোকে জানান দেয়া। এতে করে সারা বিশ্বের মানুষ জানতে পারবে দুই ধর্মের মানুষের মিল বন্ধন এ এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।


বাংলাদেশ গ্লোবাল/এমএন

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন