ঢাকা      বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
IMG-LOGO
শিরোনাম

তিস্তা ব্যারাজে পানি কমলেও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

IMG
21 October 2021, 1:39 PM

লালমনিরহাট, বাংলাদেশ গ্লোবাল: আকস্মিক বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর ভোর থেকে তিস্তার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে তিস্তার নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে যাওয়ায় এখনো নিম্নাঞ্চল প্লাবিত পড়েছেন তীরবর্তী মানুষরা। লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দুই তীরে ভাঙন শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার, যা স্বাভাবিকের (৫২ দশমিক ৬০ সেমি) চেয়ে ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দিনভর বিপৎসীমা ওপর দিয়ে পানিপ্রবাহের ফলে লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।

স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করে ভারতের গজলডোবার গেট দেওয়াতে খুলে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম দহগ্রাম দিয়ে পানি প্রবেশ করে তিস্তা ব্যারাজে। সেখানে ৪৪টি গেট বন্ধ করে পানি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন। কিন্তু প্রবল স্রোতের পানির চাপে তিস্তার ফ্লাড বাইপাস সড়কটি ভেঙে যায়। পরে ৪৪গেট খুলে দেয়। আর এই পানি লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলায় তিস্তার চরাঞ্চল ও বামতীরের নিম্নাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়ে প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। ডুবে যায় কৃষকের ফসল। দিনভর পানিতে ডুবে থাকার পর ভোর থেকে পুনরায় কমতে শুরু করে।

এ দিকে তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ, আদিতমারী, হাতীবান্ধাসহ পাটগ্রামের দহগ্রামে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। তিস্তার প্রবল স্রোতে লালমনিরহাটে কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা-রংপুর সংযোগ সড়কের পাকার রাস্তা ধসে গিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ফলে দুই জেলার সাথে যোগযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দুই পাশে হাজার হাজার মানুষসহ যানবহন আটকে পড়ে গেছে।

ভাঙ্গনকবলিত মানুষরা বলেন, প্রতিবছর তিস্তার পানি বেড়ে ঘর বাড়িসহ আবাদি জমি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু সরকার কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। শুধু মাত্র আশ্বাস দিয়ে রাখছেন তিস্তা পাড়ের মানুষদের। এভাবে আর কতদিন তিস্তা পাড়ের মানুষরা কষ্ট করে থাকবে।,

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, গতকাল ভোর থেকে পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে ৪৪টি গেট খুলে দেয়া হয়েছিল। তবে ভোর থেকে কিছু গেট বন্ধ করে পানি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। যার ফলে পানি কমে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আবারও পানি বেড়ে যাওয়ার সংখ্যা রয়েছে।


বাংলাদেশ গ্লোবাল/এমএন

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন