ঢাকা      বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
IMG-LOGO
শিরোনাম

বাগেরহাটের সাপটি ৪০ কেজি, লম্বা ২০ ফুট

IMG
22 October 2021, 9:21 PM

বাগেরহাট, বাংলাদেশ গ্লোবাল: বাগেরহাটের শরণখোলায় লোকালয় থেকে ৪০ কেজি ওজনের একটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। এটি লম্বায় ২০ ফুট। শুক্রবার (২২ অক্টোবর) সকালে সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা উপজেলার খুড়িয়াখালী গ্রামের জামাল গাজীর ঘরের পাশ থেকে ওয়াইল্ড টিমের সদস্যরা বিশাল আকৃতির ওই অজগরটি উদ্ধার করে। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অজগরটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের ষ্টেশন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ওয়াইল্ড টিমের সদস্যরা অজগরটিকে আটকে আমাদের খবর দেয়। আমরা অজগরটিকে শরণখোলা রেঞ্জ অফিস সংলগ্ন বনে অবমুক্ত করেছি। তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া অজগরটি লম্বায় ২০ ফুট এবং ৪০ কেজি ওজন। খাবারের খোঁজে ভোলানদী পার হয়ে অজগর সাপটি জামাল ফরাজির ঘরের পাশে অবস্থান নেয়। এ নিয়ে গত এক বছরে শতাধিক অজগর লোকালয় থেকে উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান বন বিভাগের এই কর্মকর্তা।

সাপটির পরিচয় নিশ্চিত হতে সময় নিউজের হাতে আসা ছবিটি পাঠানো হয় বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলার কাছে। তিনি সাপটিকে অজগর (Asian Rock Python) বা ময়াল সাপ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

তিনি বলেন, ‘অজগর সাপটি নিশাচর র্নিবিষ। এটি খুবই অলস প্রকৃতির, প্রয়োজন ছাড়া নড়াচড়াও করে না। সাপটি গাছে একাকী বাস করলেও শুধু প্রজননকালে জোড়া বাধে। সাধারণত মার্চ থেকে জুন এদের প্রজননকাল। দেশের ম্যানগ্রোভ বন, ঘাসযুক্ত জমি, চট্টগ্রাম ও সিলেটের চিরসবুজ পাহাড়ি বনে এদের দেখা পাওয়া যায়। সাপটি সাধারণত মানুষকে আক্রমণ করে না। খাদ্য হিসেবে এরা ইঁদুর, ‍মুরগি, সাপ-কচ্ছপের ডিম, ছোট বন্যপ্রাণী ইত্যাদি খায়। এটি তার আকারের চেয়েও অনেক বড় প্রাণী খুব সহজেই গিলে খেতে পারে। সাপটি পেটভরে খেতে পারলে দীর্ঘদিন না খেয়েও থাকতে পারে।

জোহরা মিলা বলেন, চামড়ার জন্য সাপটি পাচারকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ফলে আমাদের বনাঞ্চল থেকে এটি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ এর তফসিল-২ অনুযায়ী এ বন্যপ্রাণীটি সংরক্ষিত, তাই এটি হত্যা বা এর যে কোনো ক্ষতি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। অজগরটিকে হত্যা না করে বন বিভাগকে খবর দেওয়ার জন্য যুবকদের প্রশংসা করেন জোহরা মিলা।

এ সময় বনের অজগর লোকালয়ে আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাহাড় ও বন উজাড় হওয়ার কারণে সাপের আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে গেছে। এতে তাদের খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে। হয়তো অনেকটা বাধ্য হয়েই খাবারের সন্ধানে সাপগুলো লোকালয়ে আসছে।

বাংলাদেশ গ্লোবাল/এমএস

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন