ঢাকা      সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
IMG-LOGO
শিরোনাম

কবি শামসুর রাহমানের জন্মদিন আজ

IMG
23 October 2021, 9:57 AM

ঢাকা, বাংলাদেশ গ্লোবাল: কবি শামসুর রাহমানকে বলা হয়ে থাকে নাগরিক কবি। এ দেশের আধুনিক কবিদের মধ্যে অন্যতম তিনি। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগ তথা পঞ্চাশের দশকে তিনি আধুনিক কবি হিসেবে বাংলা সাহিত্যে আবির্ভূত হন। শনিবার (২৩ অক্টোবর) কবি শামসুর রাহমানের ৯৩তম জন্মদিন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় কবিতা লিখতেন কবি। পৈতৃক বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পাড়াতলী গ্রামে হলেও পুরান ঢাকার মাহুতটুলির নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন কবি শামসুর রাহমান। তার ডাকনাম বাচ্চু। বাবা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী ও মা আমেনা বেগম।

১৩ ভাইবোনের মধ্যে কবি চতুর্থ। তিনি ছিলেন একাধারে কবি ও সাংবাদিক। ১৯৫৭ সালে দৈনিক মর্নিং নিউজে সহসম্পাদক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৫৭ থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত রেডিও পাকিস্তানের অনুষ্ঠান প্রযোজক ছিলেন। এরপর আবার ফিরে আসেন মর্নিং নিউজে। সেখানে ১৯৬০-৬৪ সাল পর্যন্ত সহযোগী সম্পাদক ছিলেন।

১৯৬৪ সালের নভেম্বরে দৈনিক পাকিস্তানের (স্বাধীনতা উত্তর দৈনিক বাংলা) সহকারী সম্পাদক পদে যোগ দেন এবং ১৯৭৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি একই সঙ্গে দৈনিক বাংলা ও সাপ্তাহিক বিচিত্রার সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯৮৭ সালে সামরিক সরকার আমলে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়।

১৯৪৯ সালে সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকায় তার কবিতা প্রথম প্রকাশিত হয়। সিন্দবাদ, চক্ষুষ্মান, লিপিকার, নেপথ্যে, জনান্তিকে, মৈনাক এসব ছদ্মনামে তিনি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয় লিখতেন।

১৯৫৫ সালের ৮ জুলাই জোহরা বেগমকে বিয়ে করেন শামসুর রাহমান। সুমায়রা আমিন, ফাইয়াজ রাহমান, ফাওজিয়া সাবেরিন, ওয়াহিদুর রাহমান মতিন ও শেবা রাহমান নামে কবির তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।

বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান যখন কারাগারে তখন তাকে উদ্দেশ করে লেখেন অসাধারণ কবিতা 'টেলেমেকাস'। ১৯৬৭ সালের ২২ জুন পাকিস্তানের তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী রেডিও পাকিস্তানে রবীন্দ্রসংগীত সম্প্রচার নিষিদ্ধ করলে শামসুর রাহমান তখন সরকার নিয়ন্ত্রিত পত্রিকা দৈনিক পাকিস্তানে কর্মরত থাকা অবস্থায় পেশাগত অনিশ্চয়তার তোয়াক্কা না করে রবীন্দ্রসংগীতের পক্ষে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন।

১৯৬৮ সালের দিকে পাকিস্তানের সব ভাষার জন্য আইয়ুব খান অভিন্ন রোমান হরফ চালু করার প্রস্তাব দিলে ৪১ জন কবি, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এর বিরুদ্ধে শামসুর রাহমানও প্রতিবাদ করেন। তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে লেখেন মর্মস্পর্শী কবিতা 'বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা'।

১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি গুলিস্তানে মিছিলের সামনে একটি লাঠিতে শহীদ আসাদের রক্তাক্ত শার্ট দিয়ে বানানো পতাকা দেখে মানসিকভাবে মারাত্মক আলোড়িত হয়ে তিনি লেখেন 'আসাদের শার্ট' কবিতাটি।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিবার নিয়ে চলে যান নরসিংদীর পাড়াতলী গ্রামে। এপ্রিলের প্রথম দিকে তিনি লেখেন যুদ্ধের ধ্বংসলীলায় আক্রান্ত ও বেদনামথিত কবিতা 'স্বাধীনতা তুমি' ও 'তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা'। ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয় শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’।

শামসুর রাহমানের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’, ’স্বাধীনতা তুমি’ ইত্যাদি।

২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার ইচ্ছানুযায়ী ঢাকাস্থ বনানী কবরস্থানে নিজ মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।

বাংলাদেশ গ্লোবাল/এমএস

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন