ঢাকা      বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৮
IMG-LOGO
শিরোনাম

ইয়াসির-লিটনের ব্যাটে লিড বাড়ছে টাইগারদের

IMG
29 November 2021, 11:00 AM

স্পোর্টস ডেস্ক, বাংলাদেশ গ্লোবাল: চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিনের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দিনের শুরুতেই আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে গেছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম।

সোমবার সকালে চতুর্থ দিনের খেলা শুরুর পর প্রথম ওভারের প্রথম বলেই চার মেরে শুরু করেন মুশফিক। তবে এরপর আর এগোতে পারেননি তিনি। হাসান আলির করা দিনের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। বোল্ড হয়ে ফেরার আগে করেন ১৬ রান।

ম্যাচের চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে এখন পর্যন্ত নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৮৬ রান। প্রথম ইনিংসে ৪৪ রানের লিড পাওয়া টাইগারদের লিড বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০ রানে। ইয়াসির আলী ৩৪ রানে ব্যাট করছেন। তার সঙ্গে থাকা লিটন দাসের সংগ্রহ ১৬ রান।

চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলায় তাইজুলের বাঁহাতি ঘূর্ণিতে প্রথম ইনিংসে ২৮৬ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩৩০ রান করেছিলো স্বাগতিকরা। ফলে ৪৪ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। স্পিনার তাইজুল ইসলাম একাই ধসিয়ে দেন পাকিস্তানের ইনিংস। সাত উইকেট নেন তিনি।

এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। আফ্রিদির তোপে ১ রান তুলতেই মাঠ ছাড়েন সাদমান। এক বল পরেই 'ডাক' মেরে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সাদমান-শান্তর পর দুই বলের বেশি টেকেনি টাইগার অধিনায়ক মুমিনুলও। রানের খাতা খোলার আগেই হাসান আলীর বলে আজহার আলীর দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরেন টাইগার দলপতি। এতে মাত্র ১৫ রানেই সাজঘরে টাইগারদের তিন টপ অর্ডার ব্যাটার।

প্রথম ইনিংসের মত দ্বিতীয় ইনিংসেও শাহীন আফ্রিদিকে সামলাতে পারেনি সাইফ। পাক পেসারের বাউন্সারে আউট হবার আগে ১৮ রান করেন সাইফ।

২৫ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর মুশফিক-ইয়াসিরে দিন শেষ করে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশে লিড ছিল ৮৩ রান।

এর আগে ১৪৫ রানে তৃতীয় দিন শুরু করা পাকিস্তান শিবিরে জোড়া আঘাত হানে তাইজুল। দিনের পঞ্চম বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে আবদুল্লাহ শফিককে ফেরান। আউট হওয়ার আগে করেন ৫২ রান। পরের বলে একই ভঙ্গিতে আউট হয়েছেন আজহার আলী। কিন্তু প্রথমে তাকে আউট দেননি আম্পায়ার। বাংলাদেশ রিভিউ নিলে আম্পায়ার নিজের সিদ্ধান্ত বদল করতে বাধ্য হয়। ১ বল খেলে কোনো রান করতে পারেননি আজহার।

সকালের শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে সাবধানী ছিলেন আবিদ আলী এবং বাবর আজম। এ সময় ক্যারিয়ারের চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ফেলেন পাক এই ওপেনার। ২০৯ বল খেলে সেঞ্চুরি পেলেন তিনি। চার মেরেছেন নয়টা, ছক্কা দুটি।

দলীয় ১৬৯ রানে মিরাজের দ্রুতগতির বল বুঝতেই পারেননি পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম। ব্যক্তিগত ১০ রান তুলতেই মিরাজের ঘূর্ণিতে বোল্ড হন বাবর। বাবর আজম ফেরার পর ক্রিজে আসেন ফাওয়াদ আলম। তাইজুলের ঘূর্ণিতে তিনিও বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না। তাইজুলের বলে রক্ষণাত্মকভাবে খেলতে গিয়ে ব্যাট-প্যাডে লেগে উইকেটের পেছনে লিটনকে ক্যাচ দিয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তার ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ৮ রান। আব্দুল্লাহ শফিক, আজহার আলীর পর তাইজুলের তৃতীয় শিকার ফাওয়াদ।

চার উইকেট হারিয়ে সতর্ক হয় পাকিস্তান। বাংলাদেশি স্পিনারদের দেখেশুনে মোকাবেলা করেন আবিদ-রিজওয়ান। ৮৮তম ওভারে তাইজুলকে চার মেরে দলীয় রান ২০০ ছাড়িয়েছেন আবিদ আলী।

মধ্যাহ্নভোজের এক ওভার আগে নতুন বল নেয় বাংলাদেশ। বিরতির পর তাই স্পিন সরিয়ে পেসারদের আনেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিলেন এবাদত হোসেন। মোহাম্মদ রিজওয়ানকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। ৩৮ বলে ৫ রান করে আউট হন রিজওয়ান।

দলীয় ২১৭ রানে শতক হাঁকানো আবিদ আলীকেও এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তাইজুল। রিভিউ নিয়েও নিজের উইকেট বাঁচাতে পারেননি আবিদ। সাজঘরে ফিরতে হয়েছে ১৩৩ রান করে। ১২টি চারের পাশাপাশি মেরেছেন দুটি ছক্কা। এর আগে ১১৩ রানের মাথায় প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান তিনি।

আবিদ আলীর বিদায়ের পর ক্রিজে এসেই মারমুখী হন পেসার হাসান আলী। তাইজুলের ওভারে এক চার আর এক ছক্কা মেরে তৃতীয় বলে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন হাসান আলী। ৮ বলে করেছিলেন ১২। এই ইনিংসে এটি তাইজুলের পঞ্চম উইকেট। টেস্ট ক্যারিয়ারে নবমবারের মতো ৫ উইকেটের দেখা পেয়েছেন এই স্পিনার। পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয়বার।

এরপর সাজিদ খানের স্ট্যাম্প উপড়ে ফেললেন পেসার এবাদত হোসেন। ১২ বলে ৫ রান করেন সাজিদ। অন্যদিকে পাঁচ উইকেট নিয়েও তাইজুল যেন থামছেই না। নোমান আলীকে নিজের ষষ্ঠ শিকার বানিয়ে সাজঘরে পাঠালেন তাইজুল। এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরার আগে ১৪ বলে ৮ রান করেন নোমান।

শেষ উইকেট জুটিতে একাই লড়াই চালিয়ে গেছেন ফাহিম আশরাফ। দুজনের জুটিতে উঠেছে ২৯ রান। অবশেষে ১১৬তম ওভারে ফাহিমকে(৩৮) বিদায় করে জুটি ভাঙেন তাইজুল। এতে ২৮৬ রানেই অলআউট পাকিস্তান। দশ উইকেটের মধ্যে ৭ উইকেটেই তাইজুলের দখলে। ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন শাহীন আফ্রিদি।

বাংলাদেশ গ্লোবাল/এইচএম

সবশেষ খবর এবং আপডেট জানার জন্য চোখ রাখুন বাংলাদেশ গ্লোবাল ডট কম-এ। ব্রেকিং নিউজ এবং দিনের আলোচিত সংবাদ জানতে লগ ইন করুন: www.bangladeshglobal.com

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন