ঢাকা      বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
IMG-LOGO
শিরোনাম

বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ হবে না, গ্যারান্টি দিচ্ছি: খাদ্যমন্ত্রী

IMG
13 November 2022, 4:06 PM

ঢাকা, বাংলাদেশ গ্লোবাল: খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, দুর্ভিক্ষ আসছে এই আতঙ্কে যদি মানুষ ৩-৪ গুন খাদ্য কিনে মজুদ না করে, আল্লাহর তরফ থেকে গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ আসবে না, আসবে না, আসবে না।

মন্ত্রী বলেন, যে দেশের মাটিতে বীজ দিলেই ফসল হয়, আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে, ইরি ও বোরোর জন্য পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে, খাদ্যের মজুদ থাকার পরেও আমদানি অব্যাহত রয়েছে, সেখানে দুর্ভিক্ষ প্রশ্নই আসেনা।

আজ রোববার দুপুরে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রশিক্ষণ কক্ষে খাদ্য মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত 'গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপদ খাদ্য আইন এবং বিধিপ্রবিধি অবহিতকরণ' শীর্ষক কর্মশালা এবং খাদ্যপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সনদ প্রদানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

খাদ্যমন্ত্রী আরো বলেন, "আগে খাদ্য রপ্তানি করতে গেলে বিদেশ থেকে কর্তৃপক্ষ এসে সনদ দিতো। এখন থেকে আর সেটির প্রয়োজন হবে না। বাংলাদেশই আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সনদ দিবে। এতে করে সারাবিশ্ব জানবে, বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য পাওয়া যায়। যার ফল স্বরুপ, রপ্তানি আরো ত্বরান্বিত হবে।"

প্রতিটি বাড়িতে বা বাসায় রান্না থেকে টেবিল পর্যন্ত খাবার নিরাপদ কিনা তা দেখার উপর জোরদার করেন এবং বলিষ্ঠ জাতি গঠনে নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য সচিব মো. ইসমাইল হোসেন।

তিনি বলেন, "আন্তঃমন্ত্রণালয়ের কাজের যাতে ওভারলেপিং না হয়, তা আমরা বসে সমাধানের চেষ্টা করবো।"

তিনি খাদ্যপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে সর্বজনস্বীকৃত স্বাস্থ্য সনদ প্রদান করার জন্য আস্থা তৈরীর উপর জোর দেন এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ ও নির্ভুলভাবে প্রদান করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্বাস্থ্য সনদ প্রদান অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল কাইউম সরকার। তিনি বলেন, "খাদ্যপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিএফএসএ কর্তৃক প্রদেয় স্বাস্থ্য সনদ দেশের সামগ্রিক রপ্তানি বৃদ্ধি করবে।"

এসময় ইএসএল বাংলাদেশ লিমিটেড ও ট্রাস্ট এন্ড ট্রেড নামে দুটি কোম্পানিকে স্বাস্থ্য সনদ প্রদান করার মাধ্যমে উক্ত কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়।

এছাড়া সকাল সাড়ে এগারটায় শুরু হওয়া কর্মশালায় নিরাপদ খাদ্য আইন ও বিধি প্রবিধি সম্পর্কে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফএসএ এর সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ আহমদ। তাতে নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এর বিভিন্ন ধারা ও অধ্যায়, খাদ্য দূষণকারী, সংযোজন দ্রব্য ব্যবহার, স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ সংরক্ষণ, খাদ্য স্পর্শক, ব্যবসায়ীর বাধ্যবাধকতা, দূষন, টক্সিন, ও ক্ষতিকর অবশিষ্টাংশ, ট্রান্স ফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণ, বিষাক্ত পদার্থযুক্ত খাদ্যদ্রব্য প্রত্যাহার বিষয়ক প্রবিধানমালা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

কর্মশালায় জানানো হয়, বিশ্বে প্রতিবছর ১০ জনে ১ জন খাদ্যজনিত অসুস্থতায় ভোগে এবং ৪ লাখ ২০ হাজার জন মারা যায়। প্রতি ৩ জনে একজন শিশু মারা যায় খাদ্য জনিত অসুস্থতায়। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় ১৫০ মিলিয়ন মানুষ অসুস্থ হচ্ছে এই কারণে, মারা যায় ১ লাখ ৭৫ হাজার, যার মধ্যে ৫০ হাজার শিশু।

কর্মশালা ও স্বাস্থ্য সনদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিনিধিবৃন্দ, গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


বাংলাদেশ গ্লোবাল/এমএফ

সবশেষ খবর এবং আপডেট জানার জন্য চোখ রাখুন বাংলাদেশ গ্লোবাল ডট কম-এ। ব্রেকিং নিউজ এবং দিনের আলোচিত সংবাদ জানতে লগ ইন করুন: www.bangladeshglobal.com

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন