ঢাকা      শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১
শিরোনাম

১৪ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান

IMG
31 May 2023, 10:08 AM

স্পোর্টস ডেস্ক, বাংলাদেশ গ্লোবাল: ধর্মসাগর দীঘির কোলে উৎসবের আমেজ। সাদা-কালো পতাকা নিয়ে ল্যাপ অব অনার দিলেন মোহামেডানের ফুটবলাররা। কোচ আলফাজ আহমেদকে জড়িয়ে ধরে উল্লাস ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীবের। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন সমর্থকরা। এই উৎসব ১৪ বছর পর ফেডারেশন কাপের শিরোপা জয়ের।

মঙ্গলবার কুমিল্লার ভাষাশহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফেডারেশন কাপের ফাইনালে টাইব্রেকারে ঢাকা আবাহনীকে ৪-২ গোলে হারিয়ে এক যুগেরও বেশি সময় পর শিরোপা উৎসব করল মোহামেডান।

নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ৪-৪ গোলে ড্র ছিল। ম্যাচে হ্যাটট্রিকসহ একাই চার গোল করেন মোহামেডানের সোলেমান দিয়াবাতে।

টাইব্রেকারে মোহামেডানের পাঁচ শটের মধ্যে একটি মিস হয়। অন্যদিকে আবাহনী প্রথম চারটির মধ্যে দুটি মিস করে। মোহামেডানের বদলি গোলকিপার আহসান হাবিব দুটি শট রুখে দেন। টাইব্রেকারে মোহামেডানের হয়ে গোল পেয়েছেন দিয়াবাতে, আলমগীর কবির রানা, রজার ও কামরুল ইসলাম। তৃতীয় শটে শাহরিয়ার ইমনকে ঠেকান আবাহনীর গোলকিপার শহিদুল আলম সোহেল। বিপরীতে শুরুতে আবাহনীর রাফায়েল অগাস্তোর শট গোলকিপার আহসান হাবিব ডানদিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন। এমেকা ও ইউসেফ মোহাম্মদ গোল করলেও কলিনদ্রেসের শট রুখে দিয়ে আহসান হন জয়ের অন্যতম নায়ক।

১৪ বছর আগে ২০০৯ ফেডারেশন কাপের ফাইনালে টাইব্রেকারে আবাহনীকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল মোহামেডান। এবারও তাই। তবে ভেন্যু এবং গোল সংখ্যায় কিছুটা পার্থক্য। সেবার আবাহনীকে টাইব্রেকারে ৪-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা উল্লাস করেছিল সাদা-কালোরা। এবার হারাল ৪-২ গোলে। তবে এবারের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই হয়েছে অবিশ্বাস্য। ছাপিয়ে গেছে আগের সব লড়াই। ম্যাচের ক্ষণে ক্ষণে ছিল উন্মাদনা। পরতে পরতে উত্তেজনা। দুই ঐতিহ্যবাহীর রুদ্ধশ্বাস এক ম্যাচ দেখলেন হাজার হাজার দর্শক।

মালির ফরোয়ার্ড সোলেমান দিয়াবাতেকে দলে টেনে ভুল করেনি সাদা-কালোরা, আবারও তা প্রমাণ হলো। পুরো ম্যাচে একাই দলকে টেনে নিয়ে গেলেন। ১২০ মিনিটে আবাহনীর করা ৪ গোলের বিপরীতে হ্যাটট্রিকসহ চার গোল করেন সাদা-কালো অধিনায়ক। মোহামেডানকে অক্সিজেন দিয়ে ম্যাচের প্রতি মুহূর্তে বাঁচিয়ে রাখেন দিয়াবাতে। টাইব্রেকারেও গোল পেয়েছেন তিনি। ম্যাচজুড়ে ‘দিয়াবাতে ম্যাজিক’ দেখেছেন দর্শকরা। ফেডারেশন কাপের ৪৩ বছরের ইতিহাসে ফাইনালে এই প্রথম হ্যাটট্রিক করলেন মোহামেডানের মালির স্ট্রাইকার। বারবার পিছিয়ে যাওয়া দলকে তিনিই লড়াইয়ে ফিরিয়েছেন। তাই তো সর্বোচ্চ গোলদাতা, টুর্নামেন্ট ও ফাইনালসেরার পুরস্কারের জন্য অন্য কাউকে খোঁজার প্রয়োজন হয়নি নির্বাচকদের।

অনেকদিন পর চোখ জুড়ানো ফাইনাল দেখলেন দর্শকরা। ফাইনালের রসদ, উত্তেজনা আর শিহরণ সবই ছিল এই ম্যাচে। ১৬ মিনিটে ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও ৪৪ মিনিটে দানিয়েল কলিনদ্রেসের গোলে এগিয়ে বিরতিতে গিয়েছিল আবাহনী। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে জেগে ওঠে সাদা-কালোরা। দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে দ্বিতীয়ার্ধের ১১ মিনিটে গোল করে দিয়াবাতে জাগিয়ে তোলেন মোহামেডান-গ্যালারি। ৬০ মিনিটে গোল করে স্কোরলাইন ২-২ করেন তিনি। ৬৬ মিনিটে এমেকা গোল করলে ম্যাচ আবার ঝুঁকে পড়ে আবাহনীর দিকে (৩-২)। কে জানতেন দিয়াবাতে ম্যাচটাকে নিয়ে যাবেন অতিরিক্ত সময়ে। ৮৩ মিনিটে গোল করে তিনি বুঝিয়ে দিলেন কেন এই ম্যাচের আবেদন দর্শকদের কাছে এত বেশি (৩-৩)। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। পেন্ডুলামের মতো দুলছিল ম্যাচ। কখনো আবাহনী কখনো মোহামেডান এগিয়ে যায়। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে লিড নেয় মোহামেডান। এবারও গোলদাতা দিয়াবাতে। বক্সের মধ্যে আবাহনীর ডিফেন্ডার তাকে ফাউল করেন। রেফারি আলমগীর সরকার পেনাল্টির বাঁশি বাজান। পেনাল্টি থেকে গোল করেন দিয়াবাতে (৪-৩)। ম্যাচে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় সাদা-কালোরা। মোহামেডানের নিয়মিত গোলকিপার সুজন আহত হলে আহসানকে নামান কোচ আলফাজ আহমেদ। আহসান নামার কিছুক্ষণের মধ্যে মোহামেডান গোল হজম করে। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে রহমত মিয়ার গোলে সমতা আনে আবাহনী। বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন রহমত (৪-৪)। ১২০ মিনিটেও মীমাংসা না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে জয়ী হয় মোহামেডান। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা আবাহনী এই প্রথম ট্রফিশূন্য এক হতাশার বছর কাটাল।

ফেডারেশন কাপ এক নজরে
চ্যাম্পিয়ন : মোহামেডান
রানার্সআপ : আবাহনী
সর্বোচ্চ গোলদাতা : সোলেমান দিয়াবাতে (৮ গোল-মোহামেডান)
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : সোলেমান দিয়াবাতে (মোহামেডান)
টুর্নামেন্টসেরা : সোলেমান দিয়াবাতে (মোহামেডান)


বাংলাদেশ গ্লোবাল/এইচএম

সবশেষ খবর এবং আপডেট জানার জন্য চোখ রাখুন বাংলাদেশ গ্লোবাল ডট কম-এ। ব্রেকিং নিউজ এবং দিনের আলোচিত সংবাদ জানতে লগ ইন করুন: www.bangladeshglobal.com

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন