ঢাকা      শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২
শিরোনাম

জ্বালানির দাম নিয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত: অর্থমন্ত্রী

IMG
04 April 2026, 1:58 AM

চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ গ্লোবাল: অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জ্বালানির মূল্য নিয়ে সরকারের আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, উচ্চমূল্যে তেল-গ্যাস কিনতে গিয়ে সরকারি তহবিলের ওপর বড় চাপ তৈরি হচ্ছে। এভাবে দীর্ঘদিন চললে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রভাব পড়তে পারে। শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কোরীয় রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (কেইপিজেড) অনুষ্ঠিত চিটাগং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির (সিআইইউ) শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এই সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের। বাংলাদেশের অধিকাংশ তেল-গ্যাস ওখান থেকেই আসে। ফলে সেখানে যুদ্ধ মানে আমাদের সাপ্লাই চেইন অনেকটা বন্ধ হয়ে যাওয়া। তবে সংকট মোকাবিলায় সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। সারা বিশ্ব থেকে তেল-গ্যাস আমদানির প্রক্রিয়া চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে হারে আমাদের কিনতে হচ্ছে, তাতে দেশের বাজেট, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষকে দেওয়া সামাজিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিগুলোর ওপর প্রভাব পড়বে।’ রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানো প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির ওপর এই সংকটের প্রভাব নিশ্চিতভাবেই পড়বে। তেলের দাম বাড়লে সার ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়বে। যদিও বর্তমানে আমরা অনেক দেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে আছি। যেমন আমেরিকায় তেলের দাম কয়েক গুণ বেড়ে গেলেও আমরা এখনো ডিজেলের দাম বাড়াইনি।’

তবে অর্থমন্ত্রী এও বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে একটি পর্যায়ে গিয়ে আমাদের হয়তো দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।’ জ্বালানি খাতে সরকারের অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যদিও অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তবু এ ক্ষেত্রে আমাদের হাতে কোনো বিকল্প নেই। কারণ, জ্বালানি নিরাপত্তায় আপস করার অর্থ হলো মিল-ফ্যাক্টরি, মানুষের দৈনন্দিন জীবন, উৎপাদন ব্যবস্থা, এমনকি কৃষিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমরা জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পেরেছি। ক্রয় প্রক্রিয়া চলছে, জাহাজ আসছে এবং এখন পর্যন্ত আমরা বড় কোনো সমস্যায় পড়িনি। ঈদের সময় সবাই যাতায়াত করেছে, মিল-ফ্যাক্টরিগুলোও আগের মতো চলছে।’

বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ পড়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে এবং কমবেশি সব দেশই এর দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের জন্য আশার কথা, আমাদের রেমিট্যান্স–প্রবাহ বাড়ছে এবং গার্মেন্টস খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। রপ্তানি বাণিজ্যও বাড়ছে। আমাদের উদ্যোক্তাদের সহনশীলতার মাধ্যমে আমরা এই সাময়িক অর্থনৈতিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবো বলে আশা করি।’

ব্রেকিং নিউজ, এই মুহূর্তের খবর, প্রতিদিনের সর্বশেষ খবর, লেটেস্ট নিউজ এবং গুরুত্বপূর্ণ আপডেট নিউজ পেতে ভিজিট করুন www.bangladeshglobal.com

সর্বশেষ খবর

আরো পড়ুন