ঢাকা, বাংলাদেশ গ্লোবাল: রাজধানীর লালবাগ থানার আশরাফুল ওরফে ফাহিম নামে একজনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর রিমান্ড এবং জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা এই আদেশ দেন।
এর আগে, আদালতে হাজির করে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে দু'দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন। অপরদিকে, রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করে আসামিপক্ষ। পরে রিমান্ড ও জামিন আবেদন দু'টিই নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
দুপুর দুইটার দিকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাকে আদালত তোলা হয়। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার ১ নম্বর আসামি শেখ হাসিনা ও ৩ নম্বর আসামি শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ অন্যরা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে কুশীলব ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি তার নাম-ঠিকানা এবং মামলার তদন্ত-সহায়ক গুরত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।
তার দেওয়া তথ্য মামলার তদন্তে সহায়ক হবে মন্তব্য করে আবেদনে বলা হয়, প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে চিরতরে পালিয়ে যাওয়াসহ তদন্তে বিঘ্ন ঘটানোর আশঙ্কা রয়েছে। তাই মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তসকে জেল হাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেলে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলন চলছিল। সেখানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালোনা হয়। এ সময় একটি গুলি আশরাফুল ওরফে ফাহিমের চোখে লাগে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।
গত বছরের ২৫ মে শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এ মামলাটি করেন ভুক্তভোগী আশরাফুল।
এদিকে, আজ মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে রাজধানীর ধানমণ্ডির ৮/এ রোডের বাসা থেকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটকের পর আশরাফুলের হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর ২৭ দিনের মাথায় ২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের স্পিকারের পদ থেকে সরে যান শিরীন শারমিন। তার আগে, ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদে আসেন শিরীন। তাকে দেওয়া হয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।
এরপর নবম সংসদের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর তার স্থলাভিষিক্ত হন তৎকালীন স্পিকার আবদুল হামিদ। এরপর ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন চৌধুরী। তারপর থেকে টানা চার মেয়াদে স্পিকার ছিলেন তিনি।
ব্রেকিং নিউজ, এই মুহূর্তের খবর, প্রতিদিনের সর্বশেষ খবর, লেটেস্ট নিউজ এবং গুরুত্বপূর্ণ আপডেট নিউজ পেতে ভিজিট করুন www.bangladeshglobal.com